ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ হামলাকে ‘ইরানি শাসনের আসন্ন হুমকি নির্মূল’ করার লক্ষ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হামলা নিয়ে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি জানান, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়াই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।
বিবৃতিতে ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনা ও কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো ইরানি শাসনের হুমকিগুলো নির্মূল করার মাধ্যমে আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করা। আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করতে যাচ্ছি এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্রশিল্পকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব।’
ইরানের নৌবাহিনী ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়েও চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করে দেব। আমরা এটি নিশ্চিত করব যে এই অঞ্চলের “প্রক্সি সন্ত্রাসী”রা যেন আর মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে না পারে।’
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করব যেন ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। এটি একটি অত্যন্ত সহজ ও পরিষ্কার বার্তা। তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’
বর্তমান ইরানি সরকারকে মার্কিন সামরিক শক্তির কঠোর বার্তা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এই শাসনব্যবস্থা শিগগিরই বুঝতে পারবে যে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ্যকে চ্যালেঞ্জ করার দুঃসাহস কারও দেখানো উচিত নয়।’
প্রসঙ্গত, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন শিক্ষার্থীর নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৬০ জন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে।