হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ক্লিনটনকে এপস্টেইনের পরিমণ্ডলে নিয়ে গিয়েছিলেন গিলেইন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিচার বিভাগ প্রকাশিত ইমেইল ও আলোকচিত্রের নথি। এতে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে ব্রিটিশ অভিজাত সমাজের নারী ও পরবর্তীতে যৌন পাচারের দায়ে দণ্ডিত গিলেইন ম্যাক্সওয়েল সাবেক প্রেসিডেন্টকে কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে নিয়ে আসতে ভূমিকা রেখেছিলেন।

প্রকাশিত ছবিগুলোর একটিতে রাতের অন্ধকারে ক্লিনটনকে গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। আরেকটিতে হংকংয়ে রোলিং স্টোনসের এক কনসার্টের পেছনের মঞ্চে হাস্যোজ্জ্বল ক্লিনটনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এপস্টেইন। দিন-তারিখ অনির্দিষ্ট—এমন একটি ছবিতে ক্লিনটনকে একটি হট টাবে বসে থাকতে দেখা যায়। তবে এই ছবিতে পাশে থাকা এক ব্যক্তির মুখ গোপন রাখতে কালো করে দেওয়া হয়েছে। এসব ছবি ও ইমেইল প্রকাশের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—ক্লিনটনের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল?

তবে নথিগুলোতে ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের কেউই এখন পর্যন্ত ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি। ক্লিনটনের অফিসও দাবি করেছে, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো কিছুই জানতেন না সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং অপরাধ প্রকাশ্যে আসার আগেই তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।

২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ক্লিনটন নিজেকে বৈশ্বিক মানবকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত করেন। তিনি তাঁর ‘ক্লিনটন ফাউন্ডেশন’ এবং পরবর্তীতে ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ’–এর জন্য তিনি ধনী দাতাদের খুঁজছিলেন। সেই সময়টিতে এপস্টেইন ছিলেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, যিনি ব্যক্তিগত জেট নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী মহলে ঘোরাফেরা করতেন। আর গিলেইন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী এবং সামাজিক যোগাযোগের সেতুবন্ধ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির পর্যালোচনা করা ইমেইলগুলোতে ক্লিনটন ও এপস্টেইনের সরাসরি বার্তা না থাকলেও গিলেইন ম্যাক্সওয়েল ও ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ সহকারী ডগ ব্যান্ডের মধ্যে বিস্তর যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের ইমেইলে তাঁদের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ ও খুনসুটিতে ভরা। গিলেইনকে ব্যান্ড ‘সোশ্যাল ম্যাচমেকার’ বলে উল্লেখ করেছেন। এসব বার্তায় ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ-এর বৈঠক আয়োজন এবং ভ্রমণসূচি নিয়ে আলোচনা ছিল।

ফ্লাইট লগ অনুযায়ী—ক্লিনটন অন্তত ২৪ বার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছেন। আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে তিনি সফর করেন। তাঁর কার্যালয়ের ভাষ্য, এসব সফর ছিল ফাউন্ডেশনের কাজের অংশ। মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া এক শপথনামায় ক্লিনটন বলেন, বড় আকারের বিমানটি তাঁর স্টাফ ও সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের বহনের জন্য উপযোগী ছিল। তিনি দাবি করেন, কখনোই এপস্টেইনের কুখ্যাত ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।

এপস্টেইন নথি থেকে পাওয়া বিল ক্লিনটনের কয়েকটি ছবি। ছবি: বিবিসি

২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে আফ্রিকা সফর বিশেষভাবে আলোচিত হয়। সে সময় ক্লিনটন নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন, এপস্টেইন অত্যন্ত সফল অর্থলগ্নিকারী ও প্রতিশ্রুতিশীল সমাজসেবী। তবে পরবর্তীতে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন পাচার ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। ২০০৮ সালে এক নাবালিকার কাছ থেকে যৌন সেবা নেওয়ার দায়ে তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০১৯ সালে আরও নানা অপরাধের বিচার শুরুর আগেই কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন।

এদিকে চার কিশোরীকে এপস্টেইনের কাছে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনে সহায়তার দায়ে ২০২১ সালে গিলেইন ম্যাক্সওয়েল দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৫ সালে তিনি মার্কিন বিচার বিভাগকে দেওয়া জবানবন্দিতে দাবি করেন, ক্লিনটন ও এপস্টেইনের সাক্ষাৎ তাঁর মাধ্যমেই হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমিই এপস্টেইনকে বিমান দিতে বলেছিলাম।’ তবে কংগ্রেসের শুনানিতে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সাংবিধানিক অধিকার দেখিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এবার আসা যাক ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ সহকারী ডগ ব্যান্ডের প্রসঙ্গে। তিনি ক্লিনটনের প্রেসিডেন্সি-পরবর্তী কর্মকাণ্ডের অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত। এক বিবৃতিতে ব্যান্ড জানান, গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তাঁর ইমেইল যোগাযোগ যখন হয়েছিল, তিনি তখন অবিবাহিত ও তরুণ ছিলেন। তিনি গিলেইনকে ‘দানব’ বলে উল্লেখ করেন এবং গিলেইনের সঙ্গে ক্লিনটনের কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন।

রাতের সাঁতারে ক্লিনটনের সঙ্গে থাকা এক নারীর মুখ ঢেকে রাখা হয়েছে। ছবি: বিবিসি

২০০৫ সালে নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিল ক্লিনটন বিশ্বনেতাদের নিয়ে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে কাজ করার আহ্বান জানান। এতে অংশ নেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা। গিলেইন ম্যাক্সওয়েল নিজেকে ওই উদ্যোগে ‘খুবই কেন্দ্রীয়’ ভূমিকার দাবি করলেও ক্লিনটনের দপ্তর এই বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে গেছে।

২০২৪ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে ক্লিনটন লিখেছেন, এপস্টেইনকে তিনি ‘অদ্ভুত’ মনে করতেন। তবে তাঁর অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি লিখেছেন, ‘এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ আমাকে ফাউন্ডেশনের কাজ দেখতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে প্রশ্নবাণের মূল্য তার চেয়ে বেশি চুকাতে হয়েছে। ইশ, যদি কখনো তাঁর সঙ্গে দেখা না হতো।’

হতাহত নিয়ে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের পাল্টাপাল্টি দাবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেহরান দূতাবাস থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিল যুক্তরাজ্য

মন্দার ছায়া, তবু রেস্তোরাঁ শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থান যুক্তরাষ্ট্রে

প্রতি মাসে সাড়ে ৪ হাজার শ্বেতাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকান নেবে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে যুক্ত ১০ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল এফবিআই

মরক্কোয় প্রাসাদ কিনে স্থায়ী হতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন

লেবার পার্টির দুর্গে উপনির্বাচনে জিতল উদার গ্রিন পার্টি

১৩৩ সেনার প্রাণহানি এবং ২৭টি সেনা চৌকি দখলসহ তালেবানের যেসব ক্ষয়ক্ষতির দাবি পাকিস্তানের

মুখ্যমন্ত্রিত্ব হারিয়েছিলেন যে মামলায়, সেটাতে খালাস পেলেন কেজরিওয়াল

ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার মুখে রোসাটম, রূপপুর পরমাণু প্রকল্পে কী প্রভাব পড়বে