হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: যে কারণে যুদ্ধ জয়ে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সপ্তাহখানেক পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিঃসন্দেহে ট্রাম্পের ক্ষমতা বেশি, কিন্তু দ্ব্যর্থহীনভাবে মার্কিন জয় ঘোষণা করতে তাঁকে যে পরিমাণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি মেনে নিতে হবে, সেটা আবার খুব একটা সুখকর নয়।

ইরানের বিরুদ্ধে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন মিত্রদের দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরান। এর সঙ্গে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কার্যত বন্ধ করে দেয়। এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। ফলে হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বালানির দাম। ইরানের কৌশলের সামনে মার্কিন পরাশক্তির নাস্তানাবুদ হওয়ার সর্বশেষ নমুনা পাওয়া যায় হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিয়াভিটের গত সোমবারের বক্তব্যে।

সিএনএন জানায়, লিয়াভিট বলেছেন, ইরানের যুদ্ধ কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। আর এর সুফলও দেখা যেতে শুরু করেছে। হরমুজ দিয়ে বাড়তি ২০টি ট্যাংকার যেতে দিতে রাজি হয়েছে ইরান।

তবে এই আপাত সাফল্যে হোয়াইট হাউস তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে চাইলেও বৃহত্তর শক্তি হিসেবে এসব খুচরা ছাড়ে রাজি হওয়ার কথা নয় যুক্তরাষ্ট্রের। আবার মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে দৈনিক শতাধিক ট্যাংকার হরমুজ দিয়ে যেত, সেখানে ২০টি ট্যাংকারে রাজি হওয়ার খুবই নগণ্য বিষয়।

এদিকে হরমুজ খুলতে বলপ্রয়োগের বিকল্পও হাতে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য ইরানের খারগ দ্বীপে পদাতিক সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। তবে এতে মার্কিন জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। গত এক বছরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ যোগ হওয়ায় এবং এর প্রভাবে মার্কিনদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি হতে শুরু করায় ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে ট্রাম্পের। এর মধ্যে ইরানে মার্কিন সেনার প্রাণহানিতে ট্রাম্পের ক্ষমতার ভিত পুরোপুরি টলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবার হরমুজের নিকটবর্তী এলাকায় মার্কিন বহরের একটি যুদ্ধজাহাজও যদি ইরান ডুবিয়ে দেয়, সেটা হবে মার্কিন প্রশাসনের গালে সরাসরি চপেটাঘাত। এতে অনেকটা প্রচারণামূলক জয় পেয়ে যাবে ইরান, যা তাদের বাস্তবিক জয় এনে না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পথও আটকে দেবে। আর যুদ্ধজাহাজের ভয় দেখিয়ে হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার কোনো নিশ্চিত সম্ভাবনাও নেই।

এর সঙ্গে রয়েছে মার্কিন মিত্রদের ওপর হুমকি। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে উপসাগরীয় দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করে, স্বাভাবিকভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলা সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিগত কয়েক সপ্তাহের হামলার প্রতিক্রিয়ায় কাতার, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি ইরানের হামলা আরও বৃদ্ধি পায়, সে ক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। আর যদি ইরান পানি শোধনাগার ধ্বংস করে, তাহলে সেখানকার মানুষের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে যাবে।

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ডের আইন ইসরায়েলের

যুদ্ধবিরতি নয়, সমাপ্তি চাই—আরাঘচির মন্তব্যে নতুন উত্তেজনা

যেভাবে এল এপ্রিল ফুল: নেপথ্যের রহস্যময় ইতিহাস

ইরান যুদ্ধ থামাতে চীন ও পাকিস্তানের পাঁচ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা

এবার ইরানের মানসিক হাসপাতালে হামলা

ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা আগেভাগে জানাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের শাসন পরিবর্তন হয়ে গেছে: হেগসেথ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ

ঘরে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখে ১৭ তলা থেকে স্ত্রীর লাফ

যুদ্ধের বিল দিতে হবে আরব দেশগুলোকে, কত টাকা চাইতে পারেন ট্রাম্প