ইরানের বর্তমান রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ২০২০ সালের মে মাস থেকে তিনি দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি পুনরায় বিশ্ব গণমাধ্যমের আলোচনায় এসেছেন।
১৯৬১ সালে জন্ম নেওয়া গালিবাফ একজন কট্টর রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূলে রয়েছে সামরিক অভিজ্ঞতা। ১৯৮০ সালে তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীতে (আইআরজিসি) যোগ দেন। ১৯৮০-এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি আইআরজিসির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের নেতৃত্বের প্রমাণ দেন।
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তেহরানের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় মেয়রের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়েছেন। ২০০৫ সাল থেকে টানা ১২ বছর তিনি এই পদে আসীন ছিলেন। মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তেহরানের আধুনিকায়ন এবং অসংখ্য অবকাঠামোগত প্রকল্পের জন্য তিনি যেমন প্রশংসিত হয়েছেন, তেমনি তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।
গালিবাফ চারবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন, তবে প্রতিবারই তিনি ব্যর্থ হন। ২০০৫ সালের নির্বাচনে তিনি চতুর্থ এবং ২০১৩ সালে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ২০১৭ সালে নির্বাচনের আগমুহূর্তে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের আগাম নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (এক্সে) নিয়মিত সক্রিয় দেখা যাচ্ছে গালিবাফকে। ইসলামাবাদ আলোচনার ব্যর্থতার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে সম্প্রতি তিনি এক্সে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে শুধু গালিবাফ নন, দেশজুড়ে ইন্টারনেট-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও ইরানের শীর্ষ সব নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় আছেন।
তথ্যসূত্র: বিবিসি