ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিবৃতির পর এবার ইসলামিক রেভল্যুশানির গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিশ্চিত করল, তারা প্রতিবেশী দেশে আর হামলা করবে না। আইআরজিসি বলেছে, ‘আমরা প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করি, তবে যদি আক্রমণ অব্যাহত থাকে তবে সমস্ত মার্কিন-ইসরায়েল ঘাঁটি এবং স্বার্থ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর আইআরজিসির খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তর থেকে আল জাজিরার কাছে এ ধরনের একটি বিবৃতি এসেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আক্রমণ বন্ধ করার অনুমোদন দিয়েছে। যদি সেসব দেশ থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ না আসে তাহলে সেখানে কোনো হামলা হবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পর, সশস্ত্র বাহিনী আবারও ঘোষণা করছে যে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর স্বার্থ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আগ্রাসনমূলক কোনো কিছু করেনি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তবে, যদি পূর্ববর্তী শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তাহলে স্থল, সমুদ্র ও আকাশে অপরাধী আমেরিকা এবং ভুয়া ইহুদিবাদী সরকারের সমস্ত সামরিক ঘাঁটি এবং স্বার্থকে প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও বিধ্বংসী হামলার আওতায় আনা হবে।’
এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া রেকর্ডকৃত ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান অত্যন্ত নমনীয় সুরে বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলো, যারা আমাদের হামলার শিকার হয়েছে, তাদের কাছে আমি ক্ষমা চাওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। আমাদের কোনো প্রতিবেশী দেশ দখলের বিন্দুমাত্র অভিপ্রায় নেই।’
এদিকে আইআরজিসি ২৫তম ধাপের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘোষণা দিয়েছে। সামরিক ও সামরিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, অভিযানে হাইপারসনিক ফাতাহ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক এমাদ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।