পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল শুক্রবার বিজেপির ইশতেহারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত এই লোকসভা সদস্য তথাকথিত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ ইস্যুতে বিজেপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জানতে চান, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে, বিজেপি সরকার আশ্রয় দিয়েছে, তাঁকে কি অনুপ্রবেশকারী বলা হবে, নাকি আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি? অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, ‘শেখ হাসিনাকে কেন আশ্রয় দেওয়া হলো? তিনি কি অনুপ্রবেশকারী, নাকি আশ্রয় পেয়েছেন? কোন শিল্পপতিকে রক্ষা করতে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে বিজেপি?’
বাংলাদেশে সন্ন্যাসীদের ওপর নির্যাতন এবং চিন্ময় প্রভুর ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যখন সন্ন্যাসীদের ওপর অত্যাচার হচ্ছিল, তখন মোদি সরকার কোথায় ছিল? চিন্ময় প্রভুর ওপর হামলার সময় তারা কী করেছে?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে টার্গেট করে অভিষেক বলেন, ‘ঘুসপেতিয়া’ নিয়ে তিনি একই কথা বারবার বলছেন। পাশাপাশি পেহেলগাম সন্ত্রাসী হামলা ও গত বছরের দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনাও টেনে আনেন তিনি। অভিষেক বলেন, ‘আপনারা যদি সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকেন, তাহলে পেহেলগামে এমন হামলা হলো কেন? দিল্লিতে বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটল?’
নারী ও বেকার যুবকদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে ‘নয়া জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, এটি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা। তিনি বলেন, ‘দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগেই দিল্লির প্রতিটি নারীকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হবে। এক বছর পেরিয়ে গেছে, একজন নারীও পাঁচ পয়সা পাননি।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের এই প্রকল্পে মহিলাদের মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিটি নারীকে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ১ হাজার ৫০০ টাকা দিচ্ছি। অন্য কোনো রাজ্য দেখান, যেখানে সব নারীকে এভাবে টাকা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি মানুষকে দূষণমুক্ত বাতাসই দিতে পারে না, টাকা কীভাবে দেবে?’
শুক্রবার বিজেপি তাদের ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করে মহিলাদের ও বেকার যুবকদের মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার ও যুব সাথী প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অভিষেক অভিযোগ করেন, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস ও পোশাক নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের উদাহরণ টেনে বলেন, কেউ বাংলা ভাষায় কথা বললে তাকে জেলে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপি বলেছে, তারা দিল্লি ও গুজরাট থেকে বাংলা নিয়ন্ত্রণ করবে। আমরা বহুদিন ধরে যা বলে আসছি, আজ বিজেপি নিজেই তা স্বীকার করেছে। তারা ক্ষমতায় এলে ছয় মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করবে। বাংলার খাদ্যাভ্যাস, সংস্কৃতি ও পোশাক নিয়ন্ত্রণ করবে। তারা ইতিমধ্যেই বাঙালির মাছ খাওয়ার অভ্যাস নিয়েও সমালোচনা করছে।’
অভিষেকের দাবি, ‘কেউ যদি বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বলে, নিজের পছন্দের খাবার খায়, বা বাড়িতে বাংলা বলে, তাহলে তাকে জেলে যেতে হবে—আসামের মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এমনই বলেছেন। অতীতে যারা বাঙালিবিরোধী মন্তব্য করেছেন, তাদেরই বিজেপি পুরস্কৃত করেছে।’