হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যেভাবে ইরানে ‘নরক নামিয়ে আনার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানে আরও ব্যাপক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে ‘নরক নামিয়ে আনার’ অর্থাৎ হামলা আরও জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁর দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম না মানলে তিনি দেশটির ওপর ‘নরক নেমে আসবে’ এমন হামলা চালাবেন।

ট্রাম্প তেহরানকে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধ শেষের চুক্তিতে রাজি হতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে। গতকাল শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেন, ‘সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে—৪৮ ঘণ্টা পর তাদের ওপর নরক নেমে আসবে। সকল গৌরব ঈশ্বরের হোক!’

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়ে ‘লক্ষ্যের তালিকা আরও সম্প্রসারণ’ করতে প্রস্তুত। তারা বলছেন, এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবুজ সংকেতের’ অপেক্ষায় আছেন। তাদের ধারণা, কয়েক দিনের মধ্যেই এই সংকেত আসতে পারে।

গতকাল শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে তাঁর উপদেষ্টারা পরামর্শ দিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্য হতে পারে, কারণ এসব স্থাপনায় হামলা চালালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে বিপর্যস্ত করা সম্ভব। শনিবার রাতেই এর জবাব দেয় ইরান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এমন এক ‘জলাভূমিতে’ পরিণত করা হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ডুবে যাবে।

এদিকে, স্থানীয় সময় আজ রোববার সকালে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান—ইরানে ভূপাতিত একটি যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে ‘তীব্র গোলাগুলির’ পর উদ্ধার করা হয়েছে। ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা সোমবার শেষ হচ্ছে। এর পর ইরানের তেল, গ্যাস ও পারমাণবিক স্থাপনায় আরও বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার লক্ষ্য হবে দেশটির শাসনব্যবস্থাকে চাপে ফেলা।

ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অপরদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ‘বিশাল সামরিক অভিযানের’ বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, ‘এখনো যদি ইরান ও অন্যরা বুঝতে না পারে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যা বলেন, তা-ই করেন—তাহলে কবে বুঝবে, জানি না।’

তবে এসব হুমকি আলোচনার কৌশল কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কারণ যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা এ সপ্তাহেই পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার রাতে দেখা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্সের ঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমান উড্ডয়ন করেছে। একই সঙ্গে স্টেলথ ক্ষেপণাস্ত্রও মধ্যপ্রাচ্যে সরানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। শনিবার ইসরায়েলি বোমা হামলায় একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানা এলাকায় আঘাত হানার পর রাশিয়ার কর্মীরা ওই কেন্দ্রটি খালি করতে শুরু করেছেন এবং মস্কোয় ফিরে যাচ্ছেন।

ট্রাম্প এরই মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যেমন সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র—ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, তার শর্ত না মানলে দেশটিকে ‘প্রস্তরযুগে ফেরত’ পাঠানো হবে। তিনি ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে তেহরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ, অস্ত্র উন্নয়ন সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। শনিবার হোয়াইট হাউস থেকে তার পক্ষ থেকে যোগাযোগও সীমিত রাখা হয়। পরে তার এক যোগাযোগ কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ‘হোয়াইট হাউস ও ওভাল অফিসে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র যখন হুমকি বাড়াচ্ছে, তখন ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মঙ্গলবার একটি সামরিক সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সম্মেলনের লক্ষ্য হবে—পথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে কূটনৈতিক ঐকমত্যকে বাস্তব সামরিক পরিকল্পনায় রূপ দেওয়া এবং সংঘাত শেষে কীভাবে এটি নিরাপদ ও সচল রাখা যায়, তা মূল্যায়ন করা।

এর আগে, শুক্রবার যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ৪০টি দেশের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তেহরানকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে, বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ যেখান দিয়ে যায়, সেই প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে তারা কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রোববার সকালে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার এফ–১৫ যুদ্ধবিমানে ভূপাতিত দুজনের মধ্যে দ্বিতীয় জনকেও সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।

এই উদ্ধার অভিযান চালাতে ব্যাপক তৎপরতা চালানো হয়। রাতভর ইরানের দেহদাশ্ত এলাকার কাছে বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে, যেখানে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল। যদিও পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইউনিট নিখোঁজ অস্ত্র কর্মকর্তাকে খুঁজে পেতে বেগ পায়।

ধারণা করা হচ্ছে, ওই অজ্ঞাতনামা সেনাসদস্য প্রায় ৪৮ ঘণ্টা শত্রুপক্ষের হাত থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। এই ঘটনাই যুদ্ধ চলাকালে প্রথম, যখন একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলো। ইরান ওই সেনাসদস্যকে ধরিয়ে দিলে স্থানীয় উপজাতিদের জন্য ৫০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

তথ্যসূত্র: টেলিগ্রাফ ইউকে

প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে রাজনীতি ও মনমতো ব্যাখ্যায় চলছে পশ্চিমতীরের জমি দখল

ট্রাম্পের বেপরোয়া পদক্ষেপে পুরো অঞ্চল পুড়বে: গালিবাফ

প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছিল শত্রুরা—যেভাবে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মার্কিন ক্রু

এপস্টেইন নথিতে নাম থাকার ব্যাখ্যা দিলেন জিজি হাদিদ

ইরানের বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র পাঠিয়েছিলাম, কুর্দিরা মেরে দিয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ডার নিহত

সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প

সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কোথায়, ইরানের শক্তি কতটা

মালয়েশিয়ায় মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরেছেন নারী

ফের নাটকের চেষ্টা করলে ভারতকে তাড়িয়ে কলকাতায় নিয়ে যাব: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী