হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

সিরিয়ায় সরকার ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ, বাড়িছাড়া হাজারো মানুষ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সরকারি উদ্ধার বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

সিরিয়ার বৃহত্তম শহর আলেপ্পোতে সরকারি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের এই লড়াইয়ে আজ বুধবার পর্যন্ত দুই নারী-শিশুসহ অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছে। এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ।

গতকাল মঙ্গলবার এই সংঘর্ষের সূচনা হয়। ওই দিন সিরীয় সরকারি বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সের (এসডিএফ) মধ্যে গোলাগুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশু ছিল।

রাতভর তুলনামূলক শান্ত থাকার পর আজ বুধবার আবার গোলাবর্ষণ শুরু হয় এবং বিকেলের দিকে তা আরও তীব্র হয় বলে জানিয়েছেন রয়টার্সের সাংবাদিকেরা। আলেপ্পোর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন করে আরও চারজন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন।

সিরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত শেখ মাকসুদ ও আশরাফিয়াহ এলাকার সামরিক অবস্থানগুলোকে তারা ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করছে। সিরিয়ার দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তাঁরা আলেপ্পোতে একটি বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আশঙ্কা করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বেসামরিক মানুষদের সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। শহরের বাস ব্যবহার করে মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্ধার বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

আলেপ্পোর বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর অপারেশনপ্রধান ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মানুষ যেখানেই যেতে চান, তাঁদের ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা নিরাপদে পৌঁছে দিচ্ছি।’

সাম্প্রতিক এই লড়াই সিরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর আলেপ্পোর স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিমানবন্দর ও তুরস্কগামী একটি প্রধান মহাসড়ক। শিল্পাঞ্চলের বহু কারখানায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে এবং শহরের কেন্দ্রে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

দামেস্ক সরকার জানিয়েছে, এসডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ছোড়া রকেট, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের জবাব হিসেবেই তারা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

তবে কুর্দি বাহিনী পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলা এবং শহরের স্থিতিশীলতা ধ্বংসকারী এই বিপজ্জনক উত্তেজনার জন্য দামেস্কের সরকার সরাসরি দায়ী।

সিরিয়ার ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় কুর্দি কর্তৃপক্ষ উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার পাশাপাশি আলেপ্পোর কিছু অংশে আধা স্বায়ত্তশাসিত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে। এরপর ২০২৪ সালের শেষ দিকে বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে ইসলামপন্থী সরকার ক্ষমতায় আসে। তখন থেকে সিরিয়ার বর্তমান সরকার ওই এলাকাগুলোকে একীভূত করতে চাইলেও কুর্দিদের অনিচ্ছায় তা সম্ভব হয়নি।

গত বছর দামেস্ক সরকার ও এসডিএফের মধ্যে একটি চুক্তি হয়, যেখানে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পূর্ণ একীভূতকরণের পরিকল্পনা ছিল। তবে এ নিয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গড়িমসি ও অসৎ উদ্দেশ্যের অভিযোগ তুলেছে।

ধারণা করা হচ্ছে, এসডিএফকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে। এতে তুরস্কেরও জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আঙ্কারা কুর্দি যোদ্ধাদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছে।

ইমরান খানের দলের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত পাকিস্তান সরকারের

ভেনেজুয়েলায় মুক্তি পাচ্ছেন মাদুরোর কঠোর সমালোচক রাজনৈতিক বন্দীরা

তাইওয়ান নিয়ে চীন কী করবে সেটা সির ব্যাপার: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে সড়কপথে জয়শঙ্করের ৪০০ মাইলের রুদ্ধশ্বাস যাত্রা, নেপথ্য কাহিনি

ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় এক দিনে আরও ১৪ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

অধিবাসীদের নগদ অর্থ দিয়ে গ্রিনল্যান্ড ‘কেনার’ কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিনরা গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে ডেনিশরা ‘আগে গুলি করবে, পরে অন্য আলাপ’

আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই: ট্রাম্প

মার্কিন আগ্রাসন থেকে বিশ্ব ব্যবস্থা রক্ষায় ভারত ও ব্রাজিলের ভূমিকা চান জার্মান প্রেসিডেন্ট