ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভিক্টরি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বলা জানা গেছে। এই হামলায় সেখানে থাকা একটি বিমানেও আগুন ধরে যায়। ইরাকের সংবাদমাধ্যম ইরাকি নিউজ এবং তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্যের বরাত দিয়ে ইরাকি নিউজ জানিয়েছে, বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত ভিক্টরি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে পুরো বাগদাদজুড়ে প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে একটি বিমানেও আগুন ধরে যায়।
এই হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনা। ইরাকে বিদেশি-সংযুক্ত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলার এটি সর্বশেষ ঘটনা। পরে একটি ইরাকি সশস্ত্র সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে। তবে সংগঠনটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি ইরাকের কর্তৃপক্ষ।
এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরাক ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব মোকাবিলা করছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনকে ঘিরে বৃহত্তর সংঘাতের অভিঘাত এখনো দেশটিকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। দেশটি আবারও এক ধরনের অস্থিরতার মধ্যে পড়ে গেছে এই সংঘাতের কারণে।
সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ইরাক আরও গভীরভাবে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন উদ্বেগও বেড়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদকে সতর্ক করেছে, তাদের সেনা ও স্থাপনাগুলোর ওপর বারবার হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। এ ধরনের হামলা ঠেকাতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো নিয়ে ইরাকের সরকারের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরান-এর ওপর বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই পুরো অঞ্চলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ১,৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে সে সময়ের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-ও রয়েছেন। জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো।