যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় থাকা তাদের সামরিক বাহিনীর প্রায় ১ হাজার সেনার মধ্যে সবাইকে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বুধবার পর্যন্ত এই প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল জাজিরা।
গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করে, তারা সিরিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত আল-তানফ ঘাঁটি থেকে সরে যাচ্ছে। এই ঘাঁটি ইরাক ও জর্ডানের সীমান্তের কাছে অবস্থিত। এই ঘাঁটি ছিল আইএসআইএল (আইএসআইএস) বিরোধী বৈশ্বিক জোটের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় আইএসআইএল সিরিয়া ও ইরাকের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত। ২০১৭ সালে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার পর তাদের সেই নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গত সপ্তাহে বলেছে, এই ‘সুশৃঙ্খল প্রত্যাহার’ এক পরিকল্পিত এবং পরিস্থিতি-ভিত্তিক রূপান্তরের অংশ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের বৃহত্তর প্রত্যাহার আগামী দুই মাসে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত জানুয়ারি মাস থেকেই পূর্ণ প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
পত্রিকাটির বরাতে উল্লিখিত কর্মকর্তারা বলেছেন, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যত্র মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর বর্তমান শক্তি বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক নেই। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে যে সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্ত নয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমন এবং চলমান পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতির অভাব নিয়ে অসন্তোষ। এই হুমকির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড, বর্তমানে ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে।
তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি এসেছে সমঝোতার পর। এই সমঝোতার লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিনের বিভক্ত নিয়ন্ত্রণের পর সিরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব সুসংহত করা। এই চুক্তির অধীনে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস বা এসডিএফকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত করার কথা রয়েছে। আইএসআইএলবিরোধী লড়াইয়ে এসডিএফ ছিল ওয়াশিংটনের প্রধান অংশীদার।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই সমঝোতাকে সিরিয়ার জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। দীর্ঘদিনের বিভক্ত নেতৃত্বের পর এটিকে ইতিবাচক অগ্রগতি বলা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা কার্যকর হয় তখন, যখন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী নতুন করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, যেখানে এসডিএফের শক্ত অবস্থান রয়েছে, সেখানে দামেস্কের বাইরে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখলের চেষ্টা শুরু হয়।
পরে সরকারি বাহিনী ও এসডিএফের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হয়। সরকারি সেনারা কুর্দি নিয়ন্ত্রিত বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এতে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। মার্কিন সমর্থিত এই চুক্তি ২৯ জানুয়ারি সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দুই বাহিনীর একীভূতকরণ নিয়ে আলোচনার পথ তৈরি হয়।