হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধ বন্ধে যে ৩ শর্ত দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটিতে চলমান যুদ্ধ বন্ধে তিনটি শর্ত ঘোষণা করেছেন। কেবল এসব শর্ত মানলেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করবে ইরান। অন্যথায় অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েল এবং মার্কিন স্বার্থ-স্থাপনার ওপর হামলা অব্যাহত থাকবে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ইয়েনি শাফাকের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গতকাল বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, তেহরানের ‘বৈধ অধিকারের’ স্বীকৃতি দেওয়া, ক্ষতিপূরণ পরিশোধ এবং ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না চালানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাধ্যতামূলক গ্যারান্টি দেওয়া—এই তিনটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান সম্ভব।

রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি এই বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তির প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বুধবারই পেজেশকিয়ান চলমান সংঘাত বন্ধের জন্য তেহরানের শর্তগুলো স্পষ্ট করে দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান বৈরিতা শেষ করতে হলে ইরানের মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না—এমন শক্ত, নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে মাসুদ পেজেশকিয়ান লেখেন, এই সংঘাত শুরু হয়েছে ‘জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের’ উদ্যোগে। তিনি বলেন, ‘জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা ও যুক্তরাষ্ট্র যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তা শেষ করার একমাত্র পথ হলো—ইরানের বৈধ অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া, ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন হবে না, এমন দৃঢ় আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি নিশ্চিত করা।’

মাসুদ পেজেশকিয়ান আরও জানান, রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোন আলাপের সময়ও তিনি একই অবস্থান তুলে ধরেছেন। চলমান সংঘাতের মধ্যে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের সময় পেজেশকিয়ান আবারও বলেছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী যে আগ্রাসনকে তারা ‘উসকানিহীন হামলা’ বলে বর্ণনা করছে, তার জন্য দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে।

এই কূটনৈতিক যোগাযোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত যখন দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, তখন তেহরান আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং আহত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি মানুষ।

জবাবে তেহরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সেই দেশগুলোর বিরুদ্ধে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও বড় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরু যুক্তরাষ্ট্রের, আসতে পারে নতুন শুল্ক

ব্রাজিল থেকে যেভাবে নারীদের ফাঁদে ফেলে এপস্টেইনের কাছে পাঠাত মডেলিং এজেন্ট

ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর দেড় শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানকে ‘পুনর্গঠন অসম্ভব’ পর্যায়ে ঠেলে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার চেষ্টা

যুদ্ধ শাসকগোষ্ঠীকে দুর্বল করার বদলে শক্তিশালী করে ফেলবে— গণতন্ত্রকামী ইরানিদের মত

হঠাৎ আলোচনায় আরব দেশগুলোর ‘যৌথ সামরিক বাহিনী’

মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণ ও বিজয় নিয়ে মন্তব্যে নারাজ ট্রাম্প

ইরানে হামলার নিন্দা, নিজ ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না ইরাক

ইরান যুদ্ধ ও গাজা গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার স্পেনের