হোম > বিশ্ব > এশিয়া

মালয়েশিয়ায় মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরেছেন নারী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

দীর্ঘ ১৫ বছর মালয়েশিয়ার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে কাটানোর পর অবশেষে মুক্তি পেয়ে নিজ দেশে ফিরেছেন ইন্দোনেশিয়ার এক নারী। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই ঘটনা সীমান্তজুড়ে মাদক পাচার চক্রে দরিদ্র অভিবাসী নারীদের শোষণের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

৬৬ বছর বয়সী এই নারীর আসল নাম আসিহ। তবে তাঁর অজান্তেই পাচারকারীরা তাঁর পাসপোর্টে ‘আনি আংগ্রায়েনি’ নাম ব্যবহার করেছিল। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পেনাং অঙ্গরাজ্যের গভর্নরের ক্ষমা পাওয়ার পর তিনি কুয়ালালামপুর থেকে জাকার্তায় ফিরে যান। ঈদুল ফিতরের আগেই, গত ১৯ মার্চ তাঁকে এই ক্ষমা দেওয়া হয়।

রোববার (৫ এপ্রিল) যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বিদেশে পাড়ি জমান আসিহ। দুউই নামের এক নারী তাঁকে মালয়েশিয়ায় কেয়ারগিভার হিসেবে কাজের প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। এই চাকরিতে উচ্চ বেতন ও আবাসন সুবিধার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে, তাঁর নাম ভুয়া করে দেওয়া হয় এবং ভ্রমণের সময় আসল পরিচয় ব্যবহার না করতে বলা হয়। এটি মানবপাচারকারীদের একটি পরিচিত কৌশল।

মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পর আসিহকে ভিয়েতনাম গিয়ে একটি স্যুটকেস আনতে বলা হয়। পরে এটি করার সময় ২০১১ সালের ২১ জুন পেনাং বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ব্যাগে ৩.৮৭ কেজি মেথামফেটামিন পাওয়া যায়। পরের বছর আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

কারাবাসের সময় আসিহ নানা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। তিনি এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তবুও তিনি বেঁচে আছেন এবং অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন।

কুয়ালালামপুরভিত্তিক মৃত্যুদণ্ডবিরোধী সংগঠন ‘হায়াত’ ও জাকার্তার লিগ্যাল এইড ইনস্টিটিউট জানিয়েছে—আসিহের ঘটনা কেবল একটি মাদক মামলার গল্প নয়; এটি প্রতারণা, শোষণ এবং দুর্বলতার গভীর চিত্র তুলে ধরে। তাদের মতে, এই ধরনের নারীরা অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী নন, বরং একটি ব্যর্থ ব্যবস্থার শিকার।

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অন্তত আটজন ইন্দোনেশীয় নারী এখনো কারাগারে রয়েছেন, যাদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশই দরিদ্র পরিবার থেকে আসা এবং চাকরি বা সম্পর্কের প্রলোভনে ফেঁসে গিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ড বাতিলের পর মালয়েশিয়ায় বিচারকদের বিবেচনার সুযোগ বাড়ে। এর ফলে দেশটিতে মাদক-সংক্রান্ত মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭০৫ জন থেকে ২০২৫ সালে ৪০ জনে নেমে এসেছে। ২০১৮ সাল থেকে দেশটিতে কার্যত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালির ‘সুরক্ষায়’ মার্কিন জোটে যোগ দিতে প্রস্তুত আরব আমিরাত

প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে রাজনীতি ও মনমতো ব্যাখ্যায় চলছে পশ্চিমতীরের জমি দখল

ট্রাম্পের বেপরোয়া পদক্ষেপে পুরো অঞ্চল পুড়বে: গালিবাফ

প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছিল শত্রুরা—যেভাবে উদ্ধার হলেন নিখোঁজ মার্কিন ক্রু

এপস্টেইন নথিতে নাম থাকার ব্যাখ্যা দিলেন জিজি হাদিদ

ইরানের বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র পাঠিয়েছিলাম, কুর্দিরা মেরে দিয়েছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ডার নিহত

সোমবার ইরানের শেষ সুযোগ, মঙ্গলবার পাওয়ার প্ল্যান্ট গুঁড়িয়ে দেবেন ট্রাম্প

সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কোথায়, ইরানের শক্তি কতটা

ফের নাটকের চেষ্টা করলে ভারতকে তাড়িয়ে কলকাতায় নিয়ে যাব: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী