যুক্তরাষ্ট্রে এক চীনা গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী গবেষক দানহাও ওয়াং গত ২০ মার্চ ক্যাম্পাসের একটি ভবন থেকে পড়ে মারা যান।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘সম্ভাব্য আত্মহত্যা’ হিসেবে তদন্ত করছে। তবে চীনের পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, মৃত্যুর আগে ওয়াংকে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীর ন্যায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের অযৌক্তিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও হয়রানি করছে। বেইজিং ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চীনের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ চীনা নাগরিকদের বৈধ অধিকার ক্ষুণ্ন করছে এবং দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত চলছিল কি না, তা নিশ্চিত করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন কারেন থোল এক বার্তায় ওয়াংকে ‘মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণ গবেষক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেছেন, এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গবেষকদের ওপর নজরদারি, গ্রেপ্তার ও বৈষম্যমূলক আচরণ ক্রমেই বাড়ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে শুরু হওয়া চীনা প্রভাব নিয়ে সন্দেহ ও তদন্ত এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও অনুরূপ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়।