হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

পদ হারানোর পথে স্টারমার, প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে যুক্তরাজ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে শাবানা মাহমুদ। ছবি: এএফপি

এপস্টেইন ফাইলস ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ব্রিটেনের রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প তৈরি করেছে। এই বিতর্ক দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সাবেক সহকর্মী পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে এখন পদত্যাগের চাপ বাড়ছে।

ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সম্পর্ক ছিল। যদিও স্টারমারের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই, তবু তাঁর নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। লেবার পার্টির একাধিক আইনপ্রণেতা প্রকাশ্যে তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।

চাপের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ ও যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার দায় তাঁরা নিজেরা নিয়েছেন। তবে অনেকের মতে, শুধু এই পদত্যাগ স্টারমারের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী দলীয় এমপিদের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আসছে। এতে করে যুক্তরাজ্য ইতিহাসে প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

শাবানা মাহমুদ ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে থাকা প্রথম মুসলিম নারী। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ, অভিবাসন এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রয়েছে। তিনি ১৯৮০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা-মা পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর থেকে এসেছিলেন। জীবনের প্রথম পাঁচ বছর তিনি পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরবে কাটান।

তিনি স্মল হিথ স্কুল এবং কিং এডওয়ার্ড সিক্সথ ক্যাম্প হিল স্কুল ফর গার্লসে পড়াশোনা করেন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিংকনস কলেজে আইন বিষয়ে পড়েন। সেখান থেকে ২০০২ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৩ সালে ইনস অব কোর্ট স্কুল অব ল’ থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ শুরু করেন।

শাবানা মাহমুদ ১২–কিংস বেঞ্চ ওয়াক এবং বেরিম্যানস লেস মাওয়ার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ সালে তিনি বার্মিংহাম লেডিউড এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম দিকের নারী মুসলিম এমপিদের একজন হন।

এর আগে, তিনি ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত শ্যাডো মিনিস্টার ফর প্রিজনস, শ্যাডো মিনিস্টার ফর হায়ার এডুকেশন এবং শ্যাডো ফিনান্সিয়াল সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনের পর তাঁকে শ্যাডো ক্যাবিনেটে উন্নীত করা হয়। তিনি শ্যাডো চিফ সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি হন। একই সঙ্গে লেবার নেতা হতে ইয়েভেট কুপারের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এরপর, ২০১৫ সালের শেষ দিকে জেরেমি করবিন লেবার পার্টির প্রধান হওয়ার পর শাবানা মাহমুদ তাঁর নীতির সঙ্গে একমত না হওয়ায় শ্যাডো ক্যাবিনেট ছাড়েন। এরপর তিনি সাধারণ এমপি হিসেবে কাজ চালিয়ে যান। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ের পর তিনি সেক্রেটারি অব স্টেট ফর জাস্টিস এবং লর্ড চ্যান্সেলর হন। ২০২৫ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার পদত্যাগ করলে শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব সবচেয়ে কঠিনগুলোর একটি। অভিবাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়গুলো তাঁর অধীনে রয়েছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং অননুমোদিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে লেবার পার্টির ডানপন্থী অংশে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যে চলমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পিটার ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে কিয়ার স্টারমারের ১৯ মাসের প্রধানমন্ত্রিত্বে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। স্কটিশ লেবারের নেতা আনাস সারওয়ার—যিনি স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত—প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। সারওয়ার বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়া ঠিক হয়নি।

আনাস সারওয়ার বলেন, এই বিভ্রান্তির অবসান হওয়া দরকার। ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্ব বদলানো জরুরি। তিনি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ লেবার নেতা, যিনি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তবে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কোথাও যাচ্ছেন না। তাদের দাবি, ব্রিটিশ জনগণ পরিবর্তন আনার জন্য তাঁকে পাঁচ বছরের মেয়াদ দিয়েছেন। সেই দায়িত্ব তিনি পূরণ করবেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরেই স্টারমার পিটার ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০০৮ সালে দণ্ডিত হওয়ার পরও জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্ক ছিল। এপস্টেইন ২০১৯ সালে যৌন অপরাধের মামলার বিচার শুরুর আগেই কারাগারে আত্মহত্যা করেন।

চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সরকার নতুন কিছু নথি প্রকাশ করে। এতে আবারও বিতর্ক নতুন করে উসকে ওঠে। ওই নথিতে দেখা যায়, ম্যান্ডেলসন ব্রিটিশ মন্ত্রী থাকার সময় এপস্টেইনের কাছে গোপন সরকারি তথ্য পাচার করেছিলেন। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়ের তথ্যও এর মধ্যে ছিল। এই ঘটনার পর এখন ৭২ বছর বয়সী পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাজ্যের পুলিশ। শুক্রবার তাঁর দুটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীর দখলে নিতে নতুন পদক্ষেপ নিল ইসরায়েল

রাহুলের হাতে ভারতের সাবেক সেনাপ্রধানের অপ্রকাশিত বই, উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন

আরও ১১৪ রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত, হাতে আছে ৩৬টি

পশ্চিম তীরে নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতে চায় ইসরায়েল, ট্রাম্পের না

তাৎক্ষণিকভাবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আশঙ্কা নেই, হামলায় রেজিম পরিবর্তন সম্ভব নয়: তুরস্ক

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ফের লঘু করতে প্রস্তুত ইরান, যুক্তরাষ্ট্রকে যে শর্ত দিল

ইরানি জলসীমা থেকে মার্কিন জাহাজগুলোকে দূরে থাকার নির্দেশ

শেষ ফোনকলটি কেন বেলারুশিয়ান প্রেমিকাকে করেছিলেন এপস্টেইন

কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবককে গুলি করে হত্যা

জন্মহার বাড়াতে ভিয়েতনাম-শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী ‘আমদানি’র বিতর্কিত প্রস্তাব দক্ষিণ কোরিয়ায়