মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েনের জন্য বিস্তারিত প্রস্তুতি নিয়েছেন। এই বিষয়ে আলোচনা সম্পর্কে অবহিত একাধিক সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন ইরান সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছেন, ঠিক এমন সময় জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডাররা এই বিকল্পের প্রস্তুতির বিষয়ে নির্দিষ্ট অনুরোধ জমা দিয়েছেন।
সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্প আঞ্চলিকভাবে স্থলবাহিনী মোতায়েন করবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। তাঁরা প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন। কোন পরিস্থিতিতে তিনি স্থলবাহিনী ব্যবহারের অনুমোদন দেবেন, তা স্পষ্ট নয়।
গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকেরা স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি কোথাও সেনা পাঠাচ্ছি না।’ তবে সঙ্গে সঙ্গেই যোগ করেন, ‘যদি পাঠাতামও, আপনাদের অবশ্যই বলতাম না।’
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে জানতে চাইলে সেখানকার কর্মকর্তারা সেটি হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের কাছে পাঠিয়ে দেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কমান্ডার ইন চিফ বা সর্বাধিনায়ককে (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) সর্বোচ্চ বিকল্প দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পেন্টাগনের দায়িত্ব। এর মানে এই নয় যে, প্রেসিডেন্ট কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট যেমন গতকাল ওভাল অফিসে বলেছেন, এই মুহূর্তে তিনি কোথাও স্থলবাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন না।’
দুটি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট যদি মার্কিন সেনাদের ইরানের মাটিতে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাদের হাতে আটক হতে যাওয়া ইরানি সেনা ও আধাসামরিক সদস্যদের কীভাবে সামলানো হবে তা নিয়েও সামরিক বাহিনী বৈঠক করেছে। এর মধ্যে তাদের কোথায় পাঠানো হবে সেটিও আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিকল্পনায় সেনাবাহিনীর গ্লোবাল রেসপন্স ফোর্স এবং মেরিন কর্পসের মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে ৮১তম এয়ারবোর্ন মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের কথাও বলা হয়েছিল।
বর্তমানে কয়েক হাজার মেরিনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, একটি এক্সপেডিশনারি ইউনিটের তিনটি যুদ্ধজাহাজ এবং প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন এই সপ্তাহের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রওনা হয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় মেরিন ইউনিট যা পাঠানো হয়েছে এবং তাদের অবস্থানে পৌঁছাতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। প্রথম ইউনিটটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে পাঠানো হয়েছিল এবং এখনো ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এই মোতায়েনগুলো দেখায় যে প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে গেলেও প্রেসিডেন্টের জন্য সামরিক বিকল্প বাড়াতে পেন্টাগন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।