ভারতে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের প্রভাবে বাজারে শ্বাসকষ্টজনিত ওষুধের বিক্রি বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে শ্বাসযন্ত্র-সংক্রান্ত ওষুধের মোট বিক্রয়মূল্য বেড়েছে ১ হাজার ৭১৩ কোটি রুপি। ২০২৪ সালে যেখানে বিক্রয় ছিল ১৭ হাজার ১৯৯ কোটি রুপি, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৯১২ কোটি রুপিতে। শুধু ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই এ ধরনের ওষুধের বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৯৫৩ কোটি রুপি।
গতকাল মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পার্লামেন্টে দেওয়া এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান দেশটির স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাধব। তিনি জানান, ফার্মাসিউটিক্যালস দপ্তরের তথ্য ও ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটির ‘ফার্মার্যাক’ ডেটাবেইসের বাজার তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
পার্লামেন্টে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুশ্মিতা দেব প্রশ্ন তুলেছিলেন, উচ্চ দূষণের মাসগুলোতে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, সিওপিডি (ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ) ও অ্যালার্জির ওষুধের বিক্রি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে—এটি কি কেবল সিজনাল অসুস্থতা, না বায়ুদূষণজনিত জনস্বাস্থ্য সংকটের প্রতিফলন?
জবাবে সরকার দাবি করে, বায়ুদূষণের কারণে রোগ বা মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে—এমন কোনো তথ্য নেই।
প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাধব তাঁর উত্তরে বলেন, বায়ুদূষণ শ্বাসযন্ত্রের রোগের কারণ হলেও শুধু দূষণের কারণে রোগ বা মৃত্যু হয়েছে—এমন তথ্য নেই। খাদ্যাভ্যাস, পেশাগত পরিবেশ, সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থা, পূর্ববর্তী রোগ, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও বংশগত কারণ—এসবও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে প্রভাব ফেলে।
তবে সরকারের জাতীয় কর্মসূচি ‘ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হিউম্যান হেলথ’-এর স্বাস্থ্য পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মৃত্যু বায়ুদূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এমন প্রেক্ষাপটে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সংসদে দেওয়া প্রতিমন্ত্রীর জবাব ও সরকারি নথির তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য কেন। এর মানে সরকারের নিজস্ব নথিপত্রই তাদের দাবির বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।
সুশ্মিতা দেব গত পাঁচ বছরে দূষণজনিত শ্বাসযন্ত্রের রোগ ও মৃত্যুর রাজ্যভিত্তিক তথ্য জানতে চাইলে প্রতাপরাও যাধব জানান, ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ৩০টি রাজ্যে ‘সেন্টিনেল সার্ভেইল্যান্স’ পরিচালনা করে। বিস্তারিত পরিসংখ্যান তিনি দেননি।