যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইস্টার সানডেতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটিকে ‘নরকের মতো পরিস্থিতিতে’ পড়তে হবে।
অশালীন ভাষায় ভরা ওই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে ‘‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’’ এবং ‘‘ব্রিজ ডে’’—ইরানে এমন কিছু ঘটবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’ তাঁর এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকেরা বেসামরিক অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
তবে উত্তেজনার মধ্যেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, আগামীকাল সোমবারের মধ্যে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্ভব হতে পারে এবং দুই দেশ আলোচনায় রয়েছে।
এই হুমকির মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের আকাশে ভূপাতিত একটি যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, দুই আসনের এফ-১৫ই ইগল বিমানের অস্ত্র ব্যবস্থাপক দুদিন ইরানি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে থাকার পর মার্কিন বিশেষ বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে। এর আগে বিমানটির পাইলটকেও দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলাদাভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল। আহত হলেও তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানান ট্রাম্প।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে এই সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ এই অভিযানে অসন্তুষ্ট।
ট্রাম্পের এই পোস্টের এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি প্রেসিডেন্টকে ‘সম্পূর্ণ অস্থিতিশীল’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তিনি ইতিমধ্যে হাজারো মানুষকে হত্যা করেছেন, আরও হাজারো মানুষকে হত্যা করতে যাচ্ছেন।’ একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা সম্ভব।