হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মার্কিন রণতরি ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ ক্ষতিগ্রস্ত—দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। ছবি: উইকিপিডিয়া

ওমান সাগরে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এ বড় ধরনের হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরানের দাবি, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পরমাণু শক্তিচালিত রণতরিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও অকেজো হয়ে পড়েছে, যার ফলে মার্কিন বাহিনী সেটি নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

ইরানের সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স অব দ্য হোলি প্রফেট (সা.) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সমুদ্র সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে ওমান সাগরে এই নির্ভুল অভিযান চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করেছে, হামলার পর মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেটির সহযোগী স্ট্রাইক গ্রুপকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ওই এলাকা থেকে ‘পালিয়ে যেতে’ দেখা গেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে রণতরিটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এই হামলার সপক্ষে কোনো ভিডিও বা সুনির্দিষ্ট ছবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রচার করেনি তেহরান।

ইরানি দাবির কিছু সময় পরই এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এটিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। রণতরিটির একটি সাম্প্রতিক ছবি পোস্ট করে সেন্টকম জানায়, ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ বর্তমানে পুরোপুরি সচল এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমর্থনে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রণতরির ধারেকাছেও আসতে পারেনি।

তবে মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমান সাগরে একটি ইরানি নৌযান মার্কিন রণতরির খুব কাছাকাছি চলে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আত্মরক্ষার্থে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ডেস্ট্রয়ার থেকে ৫-ইঞ্চি মার্ক ৪৫ গান দিয়ে ইরানি নৌযানটির ওপর কয়েক দফা গুলি চালানো হয়। তবে ইরানি জাহাজটি শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এগুলো ছিল মূলত সতর্কতামূলক গুলি। কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, ইরানি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলেও একাধিকবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত একটি হেলিকপ্টার ইরানি জাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে মারে। ইরানি জাহাজ এবং এর ক্রুদের অবস্থা জানা যায়নি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘটনাটি ঘটে।

কোন ধরনের হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়, তবে নেভি সিহক হেলিকপ্টার এবং মেরিন কর্পস ভাইপার অ্যাটাক হেলিকপ্টার উভয়েরই হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করার সক্ষমতা রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমন্বয়ে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন নামে দুটি বিশাল রণতরি মোতায়েন করেছে। এ ছাড়াও আরব সাগরে বর্তমানে ছয়টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার অবস্থান করছে।

এই পাল্টাপাল্টি হামলার খবর ওমান সাগর এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে হামলার এই দাবি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে নতুন এবং ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে যেতে পারে।

হিজবুল্লাহর লাগাম টানতে চায় লেবাননের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সেনাবাহিনীর না

ব্যাপক হামলার পরও স্থিতিশীল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা: ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

পেজেশকিয়ানকে প্রথম ফোন, জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ মোদির

খামেনিপুত্র মোজতবা কি বেঁচে আছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন রহস্য

ইরাকে বিধ্বস্ত মার্কিন জ্বালানিবাহী কেসি-১৩৫–এর বৈশিষ্ট্য কী, যুদ্ধক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কতটা

রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জ্বালানিবাহী বিমান ভূপাতিত

ইরান আর আগের মতো নেই: নেতানিয়াহু

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ: তেল সংকটে হিসাবি এশিয়া

দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিতে উপসাগরীয় দেশের অর্থনীতি