স্থানীয় সময় সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইউক্রেনজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে তাপমাত্রা নেমে এসেছিল মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঠিক এমন দুর্যোগ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার এই হামলাকে ‘বর্বর’ ও ‘বিশেষভাবে নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পরই এসব মন্তব্য করেছেন স্টারমার। ট্রাম্প এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অনুরোধ করেছিলেন, তীব্র শীতের সময় অন্তত এক সপ্তাহ হামলা বন্ধ রাখতে। ট্রাম্প সে সময় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পুতিন তাঁর ‘কথা রেখেছেন’ এবং তিনি যুদ্ধের অবসান চান। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘রোববার থেকে রোববার—এক সপ্তাহ অনেক কিছু। এত ঠান্ডায় আমরা যেটুকু পাই, সেটাই গ্রহণযোগ্য।’
তবে বাস্তবে সোমবার রাতের হামলায় ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে কিয়েভে এক হাজারের বেশি আবাসিক ভবন গরমের ব্যবস্থা ছাড়াই রয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, তা মেরামতের অযোগ্য বলে জানানো হয়েছে। বহু বাসিন্দা রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন মেট্রো স্টেশনে; কেউ কেউ প্ল্যাটফর্মে তাঁবু খাটিয়ে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ কিয়েভ জুড়ে অস্থায়ী উষ্ণতা কেন্দ্র চালু করেছে এবং দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা মোকাবিলায় অতিরিক্ত জেনারেটর আমদানি করছে। ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শমিহাল বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পরিস্থিতি এখনো ‘কঠিন’ এবং পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। কিয়েভের দারনিতসিয়া কম্বাইন্ড হিট অ্যান্ড পাওয়ার প্ল্যান্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কিয়েভের বাসিন্দা ও মনোবিজ্ঞানী ইরিনা ভোভক জানান, বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের কারণে তিনি মেয়েকে নিয়ে গ্রামে বাবা-মায়ের কাছে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন। তাঁর স্বামী যুদ্ধে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিয়েভে জীবন খুবই দুর্বিষহ। মেয়েটা হাসতে চেষ্টা করে, স্বাভাবিক থাকতে চায়, কিন্তু এটি স্বাভাবিক জীবন নয়।’
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরেও দেশটিতে ১০০ টির বেশি ড্রোন হামলা চালানো হয়। বেশির ভাগ প্রতিহত করা হলেও ১৪টি স্থানে আঘাত ও ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মার্কিন দূতেরা। আলোচনার সবচেয়ে জটিল বিষয় হচ্ছে ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়ার দাবি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এই যুদ্ধ এখনো থামেনি।