হোম > বিশ্ব > এশিয়া

ফিলিপাইনে ১ বছরের জন্য ‘জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ জারি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফিলিপাইন এক বছরের জন্য জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা জারি করেছে। ছবি: এএফপি

পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি সরবরাহে ‘আসন্ন বিপদের’ কথা উল্লেখ করে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কোস প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার প্রতিবাদে ফিলিপাইনের পরিবহন শ্রমিক, যাত্রী এবং ভোক্তা সংগঠনগুলো আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের ধর্মঘটের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলো।

মার্কোস জুনিয়র বলেন, ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সরকার বিদ্যমান আইনের অধীনে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।’

জরুরি প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যা জ্বালানি তেল, খাদ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সুশৃঙ্খল চলাচল, সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে।

এক বছর মেয়াদি এই জরুরি অবস্থার ফলে সরকার সময়মতো পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য ক্রয়ের এবং প্রয়োজনে চুক্তির অর্থের একাংশ অগ্রিম প্রদানের ক্ষমতা পাবে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ পেট্রোলিয়াম পণ্যের মজুতদারি, মুনাফাখোরি এবং সরবরাহ নিয়ে কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও লাভ করেছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি সচিব শ্যারন গারিন জানান, বর্তমান ব্যবহার অনুযায়ী দেশে এখনো প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। গারিন আরও বলেন, সরকার বাফার স্টক তৈরির জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভেতর ও বাইরের দেশগুলো থেকে ১০ লাখ ব্যারেল তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত হোসে ম্যানুয়েল রোমুয়ালদেজ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো থেকে তেল কেনার ছাড় পেতে ম্যানিলা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করছে। ইরান এবং ভেনেজুয়েলার তেল এই আলোচনার অংশ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব বিকল্পই বিবেচনা করা হচ্ছে।’

তবে পরিবহন ইউনিয়ন এবং ফিলিপাইনের সিনেটররা সংকটের মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, তেলের আকাশচুম্বী দামের প্রভাব প্রশমনে মার্কোস প্রশাসন কোনো সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

ফিলিপাইনের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশন পিস্টন এই জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থাকে ‘একটি ভাসা-ভাসা সাময়িক প্রলেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা বলছে, ‘জ্বালানি সংকটের কাঠামোগত কারণগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গেছে।’

সরকারের প্রশমন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কিছু শহরে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের বিনা মূল্যে বাস ভ্রমণের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ক্রমবর্ধমান পেট্রল ও ডিজেলের দামের সঙ্গে মানিয়ে নিতে দেশজুড়ে মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক এবং অন্যান্য গণপরিবহন কর্মীদের ৫ হাজার পেসো (৮৩ ডলার) করে ভর্তুকি দেওয়া শুরু করেছে সরকার।

লেবাননের সার্বভৌমত্বে হাত দেওয়া যাবে না—ইসরায়েলকে কানাডা

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প ও ইরানের বিপরীত অবস্থান, কে সত্য বলছে

যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ১৫ দফার বিপরীতে ইরানের ৫ কঠিন শর্ত

ইরানের সঙ্গে আলোচনার ডামাডোলের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

ইসরায়েলে ইরান-হিজবুল্লাহর একাধিক হামলায় নিহত ১, আহত বহু

যুদ্ধ শেষ করতে ইরানকে ১৫ দফার পরিকল্পনা দিয়েছেন ট্রাম্প, কী আছে এতে

তৃতীয়বার ট্রাম্পের ‘ধোঁকায় বোকা হতে চায় না’ ইরান

ট্রাম্পকে তেল-গ্যাস সংক্রান্ত ‘বড় উপহার’ দিয়েছে ইরান

বিপাকে পড়ে যুদ্ধ থামানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

কঠোর অবস্থানে ইরান, আলোচনায় দিতে পারে কঠিন শর্ত