গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। যদিও শুরুর দিকের সেই হামলাগুলো ছিল অনিয়মিত এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই মাঝপথে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ইসরায়েলের বিশেষ কোনো ক্ষয়ক্ষতি করতে পারেনি। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটি হুতি ড্রোন ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, যাতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। শুরুতে এই যুদ্ধ নিয়ে নীরব থাকলেও এবার ইসরায়েলে হামলার হুমকি দিয়েছে হুতিরা। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) হুতিরা আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই নতুন ফ্রন্টে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততক্ষণ হামলা অব্যাহত থাকবে।
বিষয়টি ইসরায়েলের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সরাসরি এই হামলাগুলো ইসরায়েলের জন্য তেমন কোনো সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে না বলে মনে করা হচ্ছে, তবে লোহিতসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সিদ্ধান্ত নিলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী ও ভয়ানক।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব বর্তমানে তাদের প্রতিদিনের প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিতসাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে সরিয়ে নিচ্ছে। এশিয়ার বাজারের উদ্দেশে পাঠানো এই তেলের চালানগুলো ইয়েমেন উপকূল হয়ে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু এই অঞ্চলেই রয়েছে হুতিদের নিয়ন্ত্রণ। এখন ইরান যুদ্ধের অংশ হিসেবে হুতিরা যদি এই পথের জাহাজে হামলা শুরু করে, তবে পরিস্থিতি হবে আরও ভয়াবহ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত হুতিরা লোহিতসাগরে প্রায় ২০০ জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে ৩০টির বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি জাহাজ ছিনতাই করা হয়েছিল। এর ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি (লোহিতসাগরের দক্ষিণ প্রান্ত) এবং সুয়েজ খাল (উত্তর প্রান্ত) দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই অবস্থায় যদি হুতিরা পুনরায় লোহিতসাগরের বাব আল-মানদাব প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে, তবে বিশ্বের দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে। দুই পথেই অবরোধ বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য ডেকে আনতে পারে এক মহাবিপর্যয়।