হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

তবে কি এপস্টেইনই ছিলেন বিটকয়েনের রহস্যময় স্রষ্টা ‘সাতোশি’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: এআই

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। বলা হচ্ছে—তিনিই নাকি বিটকয়েনের রহস্যময় স্রষ্টা সাতোশি নাকামোতো। সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন বিচার বিভাগের লাখ লাখ নথি ও সেখান থেকে ছড়ানো কিছু ভাইরাল ইমেইলের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও ফ্যাক্টচেকারেরাও মাঠে নেমে পড়েছেন। তাঁরা এপস্টেইনকে বিটকয়েন–সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক বিনিয়োগকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ক্রিপ্টো জগতে এপস্টেইনের বিনিয়োগ

মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে এপস্টেইন তাঁর বিনিয়োগ কোম্পানির মাধ্যমে জনপ্রিয় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেজে প্রায় ৩০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। এটি ছিল কোম্পানিটির সিরিজ–সি ফান্ডিং রাউন্ড। কয়েনবেজের সহ–প্রতিষ্ঠাতা ফ্রেড এহরসাম এই বিনিয়োগের বিষয়টি জানতেন বলে ইমেইলে উল্লেখ রয়েছে। ২০১৮ সালে এপস্টেইন তাঁর শেয়ারের প্রায় অর্ধেক বিক্রি করে আনুমানিক দেড় কোটি ডলার আয় করেন।

এ ছাড়া, বিটকয়েন অবকাঠামো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ব্লকস্ট্রিমেও তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে বিনিয়োগ করেছিলেন। শুরুতে প্রায় ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করলেও পরে তা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ ডলারে নেওয়া হয়। এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের তৎকালীন পরিচালক জোই ইতো এই বিনিয়োগে মধ্যস্থতা করেন। তবে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ ওঠায় ব্লকস্ট্রিম কর্তৃপক্ষ পরে এপস্টেইনের শেয়ার প্রত্যাহার করে নেয়।

এপস্টেইন ২০০২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এমআইটিতে প্রায় সাড়ে আট লাখ ডলার অনুদানও দেন। নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সেই অর্থের একটি অংশ বিটকয়েন কোর ডেভেলপার গ্যাভিন অ্যান্ড্রেসেন ও ভ্লাদিমির ভ্যান ডার লানের বেতন দিতে ব্যবহৃত হয়। সেই সময়টিতে বিটকয়েন ফাউন্ডেশন আর্থিক সংকটে ছিল।

এপস্টেইনই সাতোশি নাকামোতো, দাবিটি কি যৌক্তিক

সাম্প্রতিক যেসব নথি প্রকাশ হয়েছে, সেখানে এপস্টেইনের একটি ব্যক্তিগত নোটবুক বা লগবুকের উল্লেখ আছে। ওই লগে বিভিন্ন মানুষের নাম, সাক্ষাৎ, অনুষ্ঠানসূচি—এই ধরনের টুকরো তথ্যের উল্লেখ থাকত। লগবুকে জাতিসংঘের একটি জলবায়ু সপ্তাহের অনুষ্ঠানের অতিথি তালিকার এক জায়গায় লেখা ছিল—‘সাতোশি (বিটকয়েন) ’। এটা দেখে অনেকেই ধারণা করছেন—এপস্টেইন তাহলে বিটকয়েনের স্রষ্টা সাতোশি নাকামোতোকে চিনতেন! আবার কেউ কেউ বলছেন, ‘তাহলে কি এপস্টেইনই সেই সাতোশি, যার পরিচয় এখনো অজানা?’

আরেকটি ২০১৬ সালের ইমেইলে তিনি ‘বিটকয়েনের কিছু প্রতিষ্ঠাতার’ সঙ্গে শরিয়া–সম্মত ডিজিটাল মুদ্রা নিয়ে আলোচনার কথা বলেছিলেন।

তবে তদন্তকারীরা বলছেন, এসব তথ্যের উল্লেখ এপস্টেইনকে সাতোশি নাকামোতো প্রমাণ করে না। দাবিটিকে ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে তাঁরা জানিয়েছেন, নতুন নথিগুলোতে এপস্টেইনের নাম বহুবার উঠে এলেও, বিটকয়েন সৃষ্টিতে তাঁর সরাসরি কোনো ভূমিকার প্রমাণ মেলেনি।

ভাইরাল হওয়া একটি ইমেইলে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইনই বিটকয়েনের হোয়াইটপেপার লিখেছেন। তবে এই তথ্যটি ভুল বলে নিশ্চিত করেছেন ফ্যাক্টচেকারেরা। তাঁদের মতে, প্রকাশিত নথিগুলোতে বিটকয়েনের নাম দেড় হাজারের বেশি বার এলেও, এটি শুধু এপস্টেইনের প্রযুক্তিগত আগ্রহকেই নির্দেশ করছে—কোনো মালিকানা বা বিটকয়েনের স্রষ্টা হওয়া নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্লকচেইনে কোনো লেনদেনের প্রমাণ, পাবলিক ওয়ালেট ঠিকানা বা প্রাথমিক সোর্স কোডে এপস্টেইনের সম্পৃক্ততার কোনো নথি নেই। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, এপস্টেইন–সাতোশি তত্ত্ব একটি ইন্টারনেট গুজব ছাড়া আর কিছু নয়।

কারাগারে কী করেন এপস্টেইনের সঙ্গী গিলেইন—দেখা গেল নতুন ভিডিওতে

ওমানের আলোচনায়ই যুক্তরাষ্ট্রকে শান্ত করতে চায় ইরান

হাতির হাত থেকে বাঁচতে চাওয়া জেলের প্রাণ কেড়ে নিল কুমির

বিদেশি নারীদের সঙ্গে সেলফি তোলা নিয়ে গোয়া পুলিশের হুঁশিয়ারি

চীনের হোটেলে গোপন ক্যামেরার বাণিজ্য, পর্নো সাইটে নিজেকে আবিষ্কার করছেন দর্শকেরা

পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণটি ছিল আত্মঘাতী হামলা, নিহত বেড়ে ৩১

ট্রাম্পের শেয়ার করা ভিডিওতে বানর বেশে ওবামা দম্পতি, বর্ণবাদের অভিযোগ

এখনই ইরান ছাড়ুন—নাগরিকদের উদ্দেশে মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ আবার শুরু

ট্রাম্পের বন্ধুর বিমানে করে ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কার করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে