ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের টানা এক মাসে যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা এখন নতুন রূপে ছড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েল ও পশ্চিমতীরজুড়ে। আকাশে প্রতিরোধ করা ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ধ্বংসাবশেষ প্রতিদিনই মাটিতে আছড়ে পড়ছে—স্কুলের মাঠ, রাস্তার ধারে কিংবা পাহাড়ি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে যুদ্ধের নির্মম চিহ্ন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করলেও সেগুলোর বড় বড় অংশ ভূপৃষ্ঠে পড়ে গিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক ধ্বংসাবশেষ আকারে প্রায় ছোট একটি ট্রাকের সমান। পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে একটি জলপাই বাগানে পড়ে থাকা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পাশে এক কিশোরীর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, একটি ইসরায়েলি স্কুলের খেলার মাঠে পড়ে থাকা ধাতব খণ্ডে শিশুদের উঠতে দেখা গেছে—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই তুলে ধরে।
ইসরায়েলের জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সতর্ক করে জানিয়েছে, এসব ধ্বংসাবশেষ বাইরে থেকে নিরীহ মনে হলেও এতে অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক বা বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে। ফলে সাধারণ মানুষকে এসবের কাছ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম তীরজুড়ে অন্তত ২৭০টি ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়েছে বলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই রামাল্লাহর আশপাশে। এ ছাড়া নাবলুস, বেথলেহেম, হেবরন ও সালফিত এলাকাতেও পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তারা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এসব ধ্বংসাবশেষ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে অন্তত তিনজনকে এসব ধাতব অংশ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে পশ্চিমতীরে চলাচলের ওপর ইসরায়েলের বিধিনিষেধ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ায় জরুরি সেবা কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। রামাল্লাহর কাছে বেইতিন গ্রামের বাসিন্দা লাহজাত হামাজ জানান, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ পড়ে যাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে।
এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইরান শত শত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হাজারো স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি তথ্যমতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের ১৮ জন নিহত হয়েছেন, আর পশ্চিমতীরে নিহত হয়েছেন চার ফিলিস্তিনি নারী।
বোমা হামলার সময় ইসরায়েলে অধিকাংশ মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের জন্য এমন সুরক্ষা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে আকাশ থেকে পড়া এসব বিশাল ধ্বংসাবশেষ তাদের জন্য আরও বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ চার থেকে পাঁচ মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ, যা ইরানের ‘গাদর’ বা ‘এমাদ’ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ হতে পারে।