হোম > বিশ্ব > আফ্রিকা

ধর্মান্তরিত হও, নয়তো মৃত্যু—নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জঙ্গিদের হুমকি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

নাইজেরিয়ায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর জঙ্গি হামলা ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, সশস্ত্র জঙ্গিরা গ্রামবাসীদের স্পষ্ট আলটিমেটাম দিচ্ছে—ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে ‘জিজিয়া’ কর দাও, নয়তো মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও।

ওয়াশিংটন টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার আদামাওয়া অঙ্গরাজ্যের মাদাগালি এলাকায় ফেব্রুয়ারিতে এক হামলায় অন্তত ২৫ জন খ্রিষ্টানকে হত্যা করা হয় এবং বহু বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি)-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য রিলে মুর এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ‘আইএসআইএস-ওয়েস্ট আফ্রিকা খ্রিষ্টানদের হত্যা করছে এবং ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করছে।’ তিনি সতর্ক করে দেন, নাইজেরিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহযোগিতা নির্ভর করতে পারে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার ওপর।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, জঙ্গিরা হামলার সময় গ্রামে ঢুকে খ্রিষ্টানদের জড়ো করে হত্যা করে। আদামাওয়ার বাসিন্দা বালা জন মাইগিদা বলেন, ‘আইএসডব্লিউএপির বৈশিষ্ট্যই হলো গ্রামে ঢুকে খ্রিষ্টানদের হত্যা করা।’

বেনুয়ে অঙ্গরাজ্যের একজন ধর্মযাজক জানান, জঙ্গি হামলায় তাঁর পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িসহ অনেক বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। ভাগ্যক্রমে আমার মা বেঁচে গেছেন।’

একইভাবে আগাতু অঞ্চলের এগউমা এলাকায় গির্জায় প্রার্থনার সময় হামলার ঘটনা তুলে ধরেন প্রত্যক্ষদর্শী অ্যান্ডি ইতোদো। তিনি জানান, মোটরসাইকেলে করে আসা সশস্ত্র হামলাকারীরা নির্বিচার গুলি চালায়। অনেক সময় তারা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দেয় এবং নিজেদের ফুলানি জাতিগোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওপেন ডোরস’-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাইজেরিয়ায় ৩ হাজার ৪৯০ জন খ্রিষ্টান নিহত হয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্টান হত্যার প্রায় ৭২ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ‘মিডল বেল্ট’ অঞ্চলে ফুলানি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো গ্রাম আক্রমণ, হত্যা ও অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

নাইজেরিয়ার খ্রিষ্টান নেতারা বলছেন, এই সহিংসতাকে প্রায়ই ভুলভাবে কৃষক-পশুপালক দ্বন্দ্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ধর্মীয় উগ্রবাদই এই সংঘাতের প্রধান চালিকাশক্তি, যার সঙ্গে দারিদ্র্য, অজ্ঞতা ও দুর্বল শাসনব্যবস্থাও যুক্ত।

ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নাইজেরিয়ার পরিস্থিতি এখন বৈশ্বিক পর্যায়ে ধর্মীয় নির্যাতনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অনলাইন স্ক্যাম: চীনাদের নির্যাতন করছে কম্বোডীয়রা

কাউন্টারটেররিজমের প্রধান পদত্যাগ করায় ভালো হয়েছে: ট্রাম্প

ইতিহাস জমা রাখল নাইজেরিয়া

ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালকের পদত্যাগ

কয়েক সেকেন্ডের জন্য বেঁচে যান মোজতবা খামেনি

ইরানে হামলায় নিহত স্কুলছাত্রীদের কবরের ছবিটি আসল নাকি নকল

এখনো ভোটার না হওয়া পরিচারিকাকেই কেন প্রার্থী করল বিজেপি

মস্কোতে মোজতবা খামেনির চিকিৎসা নেওয়ার খবর ‘ভিত্তিহীন’ বললেন ইরানের রাষ্ট্রদূত

স্টারলিংকের শতাধিক ডিভাইস জব্দ করল ইরান

আইসিই হেফাজতে মৃত্যু মার্কিন স্পেশাল ফোর্সে কাজ করা আফগান নাগরিকের