আফগানিস্তানের ভেতরে ২২টি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। এই হামলায় ২৭৪ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত ও ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। আজ শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক আহমেদ শরিফ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, পাকিস্তানি হামলায় তালেবানের অন্তত ১১৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও কামান ধ্বংস হয়েছে। তবে আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো স্বতন্ত্রভাবে এই হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি।
পাকিস্তানি সামরিক মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে আফগানিস্তানজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানের আরও কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে আফগানিস্তানের ২২টি ভিন্ন স্থানে তালেবানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। অভিযানে তালেবানের অন্তত ৮৩টি চৌকি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৭টি চৌকি পাকিস্তানি বাহিনী দখল করে নিয়েছে। এই সংঘর্ষে পাকিস্তানের ১২ জন সেনা নিহত ও আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার পাকিস্তানের দাবি নাকচ করে পাল্টা দাবি করেছে। কাবুলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লড়াইয়ে অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক চৌকি তারা কবজা করেছে।
গত রোববার আফগানিস্তানে কিছু সশস্ত্র জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এর পর থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। আজ ভোরে আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদ ও কাবুল। এই পাল্টাপাল্টি বিমান ও স্থল হামলায় সীমান্তসংলগ্ন তালেবানের সামরিক পোস্ট, সদর দপ্তর ও গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের এই সংঘাত এখন ‘সরাসরি যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে।