দক্ষিণ আফ্রিকায় গত কয়েক দিনের প্রলয়ংকরী বন্যা ও ঝড়ে অন্তত ৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ঘরবাড়ি হারিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। গত শনিবার থেকে দেশটিতে বৃষ্টিপাত আরও বেড়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বন্যার কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯৮-এ পৌঁছেছে এবং এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে ২৭ জন। এ ছাড়া ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ায় গৃহহীন হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার পানিতে এ সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় শহর ডারবানের কিছু অংশ তলিয়ে গেছে। রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে। অনেক হাসপাতাল ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ বন্যার পানিতে আটকা পড়েছে।
বন্যার কারণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কোয়াজুলু নাটাল (কেজেডএন) প্রদেশে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই প্রদেশে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ বাস করে। তাদের উদ্ধারে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ত্রাণ কর্মসূচিও চলছে।
নেটকেয়ার-৯১১ কোম্পানির একজন উদ্ধারকর্মী শন হার্বস্ট এএফপিকে বলেছেন, ‘দুঃখজনকভাবে এখনো অনেক বাড়িঘর থেকে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। আজও (রোববার) প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার আবহাওয়া অফিস পুসেলেতসো মোফোকেং জানিয়েছে, এ সপ্তাহের শেষের দিকে বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে।
সেনা, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বন্যার্তদের উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ডারবানের একজন বাসিন্দা ডুমিসানি কানিইলে জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের দশ সদস্য ঝড় ও বন্যায় ভেসে গেছে। তাদের এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেছেন, ‘উদ্ধারকারী দল শেষ পর্যন্ত আমাদের এখানে পৌঁছেছে। তবে বৃষ্টির কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।’