কেনিয়ায় প্রথমবারের মতো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তি একজন কেনীয় নাগরিক, যিনি গত সাত বছর ধরে প্রতিবেশী দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) বসবাস করছিলেন।
কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডেন ডুয়ালে জানান, প্রায় এক মাস আগে ওই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডিআর কঙ্গোর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত শনিবার (৩ অক্টোবর) কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নিয়মিত জনস্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর এক স্বজন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডিআর কঙ্গো থেকে প্রথমে সড়কপথে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় যান ওই ব্যক্তি। সেখান থেকে বিমানে নাইরোবি আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে কোভিড-১৯ মহামারির সময় তৈরি একটি আইসোলেশন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার জ্বর, কাঁপুনি, তীব্র ক্লান্তি ও দুর্বলতা, গিলতে ব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
রোগীর উপসর্গ ও ভ্রমণ ইতিহাস বিবেচনায় চিকিৎসকেরা ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের সন্দেহ করেন। পরে পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ইবোলার বান্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাস শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্তত ২৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। একই বিমানে ভ্রমণ করা আরও ২৩ যাত্রী এবং চারজন ক্রুর সন্ধানেও কাজ চলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ৮ হাজার ৪৬৩টি সংক্রমণের মধ্যে ৪ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি প্রাদুর্ভাবে ডিআর কঙ্গোতেই এ পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত মে মাসে ডিআর কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। পরে উগান্ডাতেও রোগটি শনাক্ত হয় এবং সেখানে দুজনের মৃত্যু ঘটে। তবে আগস্টে উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। এরপর নতুন শনাক্ত সব সংক্রমণই ডিআর কঙ্গোয় পাওয়া গেছে।
বান্দিবুগিও ইবোলা তুলনামূলকভাবে বিরল একটি ধরন। বর্তমানে এ প্রজাতির বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মানুষদের দ্রুত শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ এবং কঠোর জনস্বাস্থ্যবিধি অনুসরণকে গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।