মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদে গণতান্ত্রিক শাসনের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের মতো।
বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) হতাহতের এ ঘটনা ঘটেছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সালেহ কেবজাবো। ঘটনাটিকে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহ’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রাজধানী এনজামিনা ও আরও কয়েকটি শহরে নিরাপত্তা বাহিনী নির্মমভাবে বিক্ষোভ দমন করার সময় নির্বিচার হত্যার শিকার হয় বেসামরিকেরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, সামরিক শাসনের অধীনে থাকা চাদ ২০২১ সালের এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ইদ্রিস দেবির মৃত্যুর পর থেকেই সংকটে আছে। ইদ্রিস দেবির ছেলে মোহামাত বাবার মৃত্যুর পরপরই ক্ষমতা দখল করেন এবং ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে ১ অক্টোবর নতুন এক ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন দুই বছর পিছিয়ে দেন তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিশ্রুতির ১৮ মাসের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার বিক্ষোভের ডাক দেয় বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে সরকার।
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে জনগণ। রাস্তা বন্ধ করে এবং নতুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষোভকারীরা। পরে বিক্ষোভ দমাতে চড়াও হয় নিরাপত্তা বাহিনী।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশন ও চাদে তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসভাবে বিক্ষোভ দমন করেছে এবং এ সময় তাজা গুলি ব্যবহারের পাশাপাশি নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।