হোম > বিশ্ব > আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়িতে ঢুকে গুলি, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ১১

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

গুলির পর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বন্দুকধারীরা। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি বাড়িতে ঢুকে গুলির ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে দেশটির ডারবান শহরের কাছে কোয়ামাখুথা টাউনশিপের একটি বাড়িতে ঢুকে গুলি চালায় কয়েকজন বন্দুকধারী।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাড়িটিতে তখন ১৪ জন অবস্থান করছিল। বন্দুকধারীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হন। গুলিতে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তাঁদের মধ্যে আরও একজন মারা যান।

নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের নজরদারি ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি তারা।

তাৎক্ষণিকভাবে হামলার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ ধারণা করছে, অপরাধী চক্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধের জের ধরে এ হামলা হয়ে থাকতে পারে। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই বাড়ির ভেতরে ১৩ জন পুরুষ ও এক নারী একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। ওই নারীকে অন্তঃসত্ত্বা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন সময় তিনজন পুরুষ সেখানে এসে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই নারীও রয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার টেলিভিশন চ্যানেল ইএনসিএর এক প্রতিবেদক ঘটনাস্থল থেকে জানান, পালিয়ে যাওয়ার আগে হামলাকারীরা নিহতদের একজনের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঘটনাস্থলের ভিডিওতে গাড়িটিকে পুড়ে যাওয়া অবস্থায় দেখা যায়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বের অন্যতম বেশি হত্যার হার রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ জনের বেশি মানুষ হত্যার শিকার হন।

সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে দেশটিতে নারীদের হত্যার একাধিক ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্তত নয়জন নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। তাঁদের কয়েকজনের মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল।

এর আগে গত বছর জোহানেসবার্গের একটি পানশালায় বন্দুক হামলায় নয়জন নিহত হয়েছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে এলাকা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ, মাদক পাচার ও অবৈধ খননকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এসব অপরাধী গোষ্ঠীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক সময় স্থানীয় এলাকায় সহিংসতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছিলেন, সংগঠিত অপরাধ দেশের গণতন্ত্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ‘সবচেয়ে তাৎক্ষণিক হুমকি’। ওই সময় তিনি পুলিশকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।