হোম > স্বাস্থ্য > চিকিৎসকের পরামর্শ
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস

প্রদাহ কমাতে সহায়ক যেসব খাবার

লিনা আকতার

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস একধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহজনিত রোগ। এ রোগ হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা নিজের জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে আক্রমণ করে। ফলে জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা, শক্ত হয়ে যাওয়া এবং নড়াচড়ায় অসুবিধা হতে পারে। এ রোগের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। কিছু খাবারে থাকা পুষ্টি উপাদান প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশনের ২০২১ সালের একটি নিবন্ধে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে খাবারের সম্ভাব্য ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এতে মেডিটেরিয়ান খাদ্যাভ্যাস, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অলিভ অয়েল, ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশসমৃদ্ধ খাবারের কথা বলা হয়েছে।

ফল ও শাকসবজি খান

ফল ও শাকসবজিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ এবং উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক উপাদান থাকে। এগুলো শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং ক্ষতির হাত থেকে কোষ রক্ষা করতে সাহায্য করে।

খাদ্যতালিকায় পেয়ারা, পেঁপে, কমলা, আমলকী, টমেটো, গাজর, লালশাক, পালংশাক ও অন্যান্য মৌসুমি সবজি রাখতে পারেন। বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি খেলে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

২০১৭ সালে ‘আর্থ্রাইটিস কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ২০ ধরনের খাবার সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্লুবেরি, মাছ, স্ট্রবেরি ও পালংশাককে এমন খাবার হিসেবে বেশি উল্লেখ করা হয়েছিল, যেগুলো খেলে তাঁদের উপসর্গ কমেছে বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে মিষ্টিজাতীয় খাবার ও চিনি মেশানো কোমল পানীয়কে উপসর্গ বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত বলে বেশি উল্লেখ করা হয়েছিল। এই ফল রোগীদের নিজেদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পাওয়া। অবশ্য এটি প্রমাণ করে না যে এসব খাবার সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার খান

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহজনিত প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বাংলাদেশের খাদ্যতালিকায় ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ রাখা যেতে পারে। তবে সব মাছের ওমেগা-৩-এর পরিমাণ সমান নয়।

২০২০ সালে ‘নিউট্রিশন রিভিউস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে মেডিটেরিয়ান খাদ্যাভ্যাস ও রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার ফল পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে ব্যথা, সকালে জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকা ও শারীরিক কার্যক্ষমতার উন্নতির পাশাপাশি রক্তে প্রদাহের কিছু নির্দেশক কমার তথ্য উঠে আসে।

অলিভ অয়েল ও স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নিন

অলিভ অয়েলে ওলিওক্যানথাল নামের একটি উপাদান রয়েছে। গবেষণায় এ উপাদানের প্রদাহ-সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় প্রভাব এবং জয়েন্টের তরুণাস্থির ক্ষতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আগের কিছু গবেষণায় ওলিওক্যানথালের সঙ্গে প্রদাহ বাড়ায় এমন সিওএক্স ১ ও সিওএক্স ২ এনজাইমের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার সম্পর্কও দেখা গেছে।

অলিভ অয়েল না থাকলে রান্নায় পরিমিত পরিমাণে প্রচলিত উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করা যায়। অতিরিক্ত তেল, ঘি, মাখন ও চর্বিযুক্ত মাংস কম খাওয়া ভালো।

গ্রিন টি পান করতে পারেন

গ্রিন টিতে ইজিসিজি নামের একটি উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। ২০১৬ সালে ‘আর্থ্রাইটিস অ্যান্ড রিউমাটোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই উপাদানের প্রদাহবিরোধী কার্যক্রম এবং রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে গ্রিন টি পান করা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখুন

আঁশসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে ওটস, লাল চাল, আটার রুটি, ডাল, ছোলা ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার। কিছু গবেষণায় বেশি আঁশ গ্রহণের সঙ্গে রক্তে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিনের (সিআরপি) মাত্রা কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সিআরপি হলো শরীরের প্রদাহের একটি নির্দেশক।

মেডিটেরিয়ান খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করুন

এই খাদ্যাভ্যাসে ফল, শাকসবজি, মাছ, অলিভ অয়েল, পূর্ণ শস্য, বাদাম, বীজ ও ডালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মুরগির মাংস, দুধজাত খাবার ও ডিম পরিমিত পরিমাণে রাখা হয়। লাল মাংস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, পরিশোধিত শস্য ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি সীমিত রাখা হয়।

আমাদের দেশে দেশি মাছ, ডাল, শাকসবজি, মৌসুমি ফল, বাদাম ও পরিমিত পরিমাণে ভাত দিয়ে এ ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব।

মনে রাখবেন, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ জরুরি। খাবারের পরিবর্তন সহায়ক হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসার বিকল্প নয়।

ডাক্তারের পরামর্শ: লিনা আকতার, পুষ্টিবিদ রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

তথ্যসূত্র: ‘ইট রাইট ফর ইয়োর টাইপ অব আর্থ্রাইটিস’, মিশেল অ্যান্ডওয়েলে, আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশন, ১৮ জুন ২০২১

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে দরকার সচেতনতা

চশমার বিকল্প আইসিএল সার্জারি, যা জানা জরুরি

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ভয় নয়, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসা রক্ষা করবে জীবন

আপনার চোখ নিরাপদে রাখুন

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা পর্যাপ্ত খাওয়াদাওয়া ও ঘুমানো সত্ত্বেও কেন অপুষ্টিতে ভোগেন

ডেঙ্গুতে অন্ধবিশ্বাস নাকি বিজ্ঞানসম্মত পুষ্টি

জন্মগত ছানি: শিশুর দৃষ্টির পথে নীরব বাধা

কতটা জরুরি এই টিকা

বর্ষাকালীন রোগ প্রতিরোধের উপায়