জন্মগত ছানি হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে শিশুর জন্মের সময় অথবা জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে চোখের স্বচ্ছ লেন্স ঘোলা হয়ে যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় চোখের লেন্স স্বচ্ছ থাকে এবং আলোকে রেটিনায় সঠিকভাবে ফোকাস করতে সাহায্য করে। কিন্তু ছানি হলে আলো চোখের ভেতরে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে শিশুর দৃষ্টিশক্তির স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। শিশুদের অন্ধত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো জন্মগত ছানি।
জন্মের সময় উপস্থিত বা জীবনের প্রথম এক বছরের মধ্যে তৈরি হওয়া লেন্সের যেকোনো ঘোলা ভাবকে জন্মগত ছানি বলে। এটি এক চোখে অথবা দুই চোখে হতে পারে।
জন্মগত ছানির বিভিন্ন কারণ রয়েছে। প্রধান কারণগুলো হলো—
বংশগত কারণ: অনেক ক্ষেত্রে জন্মগত ছানি জেনেটিক কারণে হয়ে থাকে। পরিবারের কারও জন্মগত ছানির ইতিহাস থাকলে শিশুর ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গর্ভকালীন সংক্রমণ: মায়ের গর্ভাবস্থায় কিছু ভাইরাসজনিত সংক্রমণ শিশুর চোখের লেন্সের বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
মায়ের অসুস্থতা ও ওষুধ: গর্ভাবস্থায় মায়ের কিছু রোগ, যেমন ডায়াবেটিস বা কিছু ক্ষতিকর ওষুধ গ্রহণ শিশুর জন্মগত ছানির কারণ হতে পারে।
বিপাকীয় সমস্যা: কিছু শিশুর জন্মগত বিপাকীয় রোগের সঙ্গে ছানি দেখা দিতে পারে।
জন্মগত ছানিকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়—
শিশুর জন্মগত ছানির লক্ষণগুলো হলো—
জন্মগত ছানি নির্ণয়ের জন্য—
জন্মগত ছানির প্রধান চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার। তবে সব ছানিতে দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন হয় না। ছানির আকার, অবস্থান এবং দৃষ্টির ওপর প্রভাব অনুযায়ী চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অপারেশনের পর চিকিৎসা
অপারেশনের পর—
সময়মতো চিকিৎসা না হলে জন্মগত ছানি থেকে হতে পারে স্থায়ী দৃষ্টিহীনতা, অলস চোখ, বাঁকা চোখ, চোখ কাঁপা।
চোখের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা জীবনের প্রথম কয়েক বছর শিশুর দৃষ্টি বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেরি হলে দৃষ্টি পুরোপুরি ফিরে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
জন্মগত ছানির সব কারণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে ঝুঁকি কমানো যায়। সে জন্য—
পরামর্শ দিয়েছেন, ডা. মো. আরমান হোসেন রনি , কনসালট্যান্ট (চক্ষু), দীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল, সোবহানবাগ, ঢাকা