দেশজুড়ে অতি সংক্রামক হামে আক্রান্ত সন্দেহে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৯৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে হাম প্রতিরোধে আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি। ১৮টি জেলার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভার ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গেছে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সংক্রমণ হার সবচেয়ে বেশি দক্ষিণের জেলা বরগুনায়। চলতি বছরে এই জেলায় ২৬টি শিশুকে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই উপজেলায় সংক্রমণের হার প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে ২৯৫ জন। এরপর রয়েছে পাবনা সদর উপজেলা। এখানে ৩২টি শিশুকে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংক্রমণের হার প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় ১৮০ জন। এই ৩০ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে কম সংক্রমণ মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে, যেখানে সংক্রমণের হার ৫১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী আজ থেকে যে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় হামের টিকাদান চলবে—বরগুনা জেলার বরগুনা পৌরসভা ও সদর, পাবনার পাবনা পৌরসভা ও সদর, চাঁদপুরের চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী, গাজীপুরের গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার ঈশ্বরদী, নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, পাবনার আটঘরিয়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, যশোরের যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোরের নাটোর পৌরসভা ও সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, কক্সবাজারের রামু, চাঁদপুরের হাইমচর, ময়মনসিংহের তারাকান্দা, মাদারীপুরের মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার বেড়া, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরা এবং মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামের রোগী ৮২৫ জন। ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৮টি। মৃত রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজশাহী বিভাগে। যেখানে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর ঢাকা বিভাগে ৩৮ জন, চট্টগ্রামে ৭ জন, বরিশালে ২ জন এবং খুলনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। এর মধ্যে বরিশালে ৫ জন, চট্টগ্রামে ৩ জন, ঢাকায় ৪ জন, ময়মনসিংহে একজন এবং রাজশাহীতে ৩ জন। রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় শীর্ষে ঢাকা বিভাগ। সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগী সবচেয়ে বেশি ঢাকায় ২ হাজার ৭৬৯ জন। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রাজশাহী ১ হাজার ৩০৮ জন। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ঢাকায় ৩৯৪ জন এবং রাজশাহীতে ১৮৯ জন।
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বর আছে এমন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’