মানুষের কণ্ঠস্বরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন তার বয়স এবং বার্ধক্যের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় ১৮ থেকে ৮৮ বছর বয়সী ২ হাজার ৯২৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কণ্ঠস্বর বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা একটি মেশিন লার্নিং টুল ব্যবহার করে ‘স্পিচ ক্লক’ তৈরি করেছেন। সেখান থেকে কণ্ঠের গতি, সুর বা পিচ, শব্দভান্ডার এবং আবেগ বিশ্লেষণ করে একজন মানুষের বয়স নির্ধারণ করা যায়।
জৈবিক বয়স ও মানসিক স্বাস্থ্য: প্রকৃত বয়সের চেয়ে ‘কণ্ঠের বয়স’ বেশি হলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং ডিমেনশিয়া বা অ্যালঝেইমারস রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে।
কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য: বয়স্ক কণ্ঠস্বর সাধারণত কিছুটা ধীরগতির, একঘেয়ে বা ফ্ল্যাট এবং আবেগহীন হয়ে থাকে। অন্যদিকে, কম বয়সী কণ্ঠ দ্রুত ও স্পষ্ট হয়।
শারীরিক কারণ: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বরযন্ত্রের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়া এবং ফুসফুসের বাতাস ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে কণ্ঠে পরিবর্তন আসে। সাধারণত ৫০ বছরের পর থেকে এই পরিবর্তনগুলো শুরু হয়।
রক্ত পরীক্ষা বা ব্রেন স্ক্যানের মতো ব্যয়বহুল পদ্ধতির বদলে সহজে ও কম খরচে বার্ধক্য এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করতে এই ‘স্পিচ ক্লক’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: দ্য ডেইলি মেইল