ক্ষুধা মেটাতে কিংবা বিকেলের হালকা নাশতায় বাদাম অনেকের প্রথম পছন্দ। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বাদাম খাওয়া ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি কমাতেও দারুণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের গবেষকেরা প্রায় দেড় লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত আটটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত এই পর্যালোচনা বিশ্লেষণ ১৮ থেকে ৮৭ বছর বয়সী পুরুষ ও নারীর ওপর চালিত হয়।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন মাত্র এক মুঠো বা প্রায় ৩০ গ্রাম বাদাম খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন প্রতি ২৮ গ্রাম বাদাম খাওয়ার ফলেও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে এই উপকার পেতে সঠিক পরিমাণ বজায় রাখা জরুরি। যেমন প্রতিদিন ২৫-৩৫ গ্রাম বাদাম খাওয়া সবচেয়ে সুফলদায়ক। প্রতিদিন ২৫ গ্রামের কম খেলে রক্তচাপ কমানোর সুফল কমে যায়, আবার ৩৫ গ্রামের বেশি খেলে অতিরিক্ত কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়ার প্রমাণ মেলেনি।
গবেষণাটি পর্যবেক্ষণমূলক হওয়ায় বাদাম সরাসরি রক্তচাপ কমায় কি না তা নিশ্চিত না করা গেলেও, বিশেষজ্ঞরা এর সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ তুলে ধরেছেন। বাদামে থাকা এল-আর্জিনিন নামক উপাদানটি শরীরে ‘নাইট্রিক অক্সাইড’ তৈরি করে। এটি রক্তনালিকে শিথিল ও প্রসারিত করতে সাহায্য করে। বাদামের ফাইবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্যকারী উপাদান তৈরি করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের প্রদাহ কমায়। ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্রোটিনে সমৃদ্ধ বাদাম রক্তনালির কর্মক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
মনে রাখতে হবে, বাদাম কোনো ওষুধের বিকল্প নয়। তবে সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে এটি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে দারুণ সহায়তা করতে পারে। গবেষণায় নির্দিষ্ট কোনো বাদামের কথা না থাকলেও কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট এবং চীনাবাদাম উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে বেশ কার্যকর। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, অতিরিক্ত লবণযুক্ত বাদাম এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই চিপস বা অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্সের বদলে প্রতিদিন এক মুঠো লবণহীন বা কাঁচা বাদাম ডায়েটে যুক্ত করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সূত্র: ডেইলি মেইল