হোম > স্বাস্থ্য > চিকিৎসকের পরামর্শ

ইফতার ও সেহরিতে চাই বিশেষ সতর্কতা

ডা. কাকলী হালদার

ডা. কাকলী হালদার

সহকারী অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতার ও সেহরির মাধ্যমে আমরা শরীরে শক্তি ফিরে পাই। কিন্তু অসচেতনতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এ মাসেই সাধারণ মানুষের মধ্যে পেটের পীড়া কিংবা ফুড পয়জনিংয়ের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। অনেকে আছেন, যাঁরা শুধু ইফতারে ভাজাপোড়া কিংবা বাইরের খোলা খাবার খেয়ে তীব্র পেটব্যথা, বমি বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন।

ফুড পয়জনিং কেন হয়

ফুড পয়জনিং মূলত দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে শরীরে সালমোনেলা, ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্যারাসাইটের সংক্রমণের কারণে ঘটে। রমজানে এর প্রধান কারণগুলো হলো—

রাস্তার পাশের খোলা খাবার: ইফতারের আগে রাস্তার পাশে সাজিয়ে রাখা চপ, বেগুনি, পেঁয়াজি বা হালিম ধুলাবালুতে এবং মাছির কারণে সহজে দূষিত হয়।

অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ: নোংরা হাতে খাবার পরিবেশন বা একই তেলে বারবার ভাজা খাবার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

বাসি খাবার: সেহরির বেঁচে যাওয়া খাবার ঠিকমতো সংরক্ষণ না করে ইফতারে খাওয়া কিংবা ইফতারের বাসি খাবার সেহরিতে খাওয়া।

অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও মসলাযুক্ত খাবার: দীর্ঘক্ষণ পেট খালি থাকার পর গুরুপাক খাবার পাকস্থলীর হজমপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়, যা ফুড পয়জনিংয়ের মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে।

লক্ষণ

সাধারণত দূষিত খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে। প্রধান লক্ষণগুলো হলো—

» পেটে তীব্র মোচড় দেওয়া বা ব্যথা

» বারবার বমি হওয়া বা বমি ভাব

» পাতলা পায়খানা কিংবা ডায়রিয়া

» হালকা জ্বর হওয়া কিংবা শরীর ম্যাজম্যাজ করা

» শরীরে পানিশূন্যতা

রমজানে সুরক্ষার উপায়

রোজা রাখার পর সুস্থ থাকতে হলে খাদ্যাভ্যাসে কিছু কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। সুস্থ থাকার কার্যকর কয়েকটি পদ্ধতি হলো—

বাড়িতে তৈরি খাবারকে প্রাধান্য দিন: বাইরের বাহারি ইফতারি বর্জন করে ঘরে তৈরি পরিচ্ছন্ন খাবার খান। ডাল-ভাত, সবজি বা হালকা তেলের রান্না খাবার পাকস্থলীর জন্য আরামদায়ক।

পানিশূন্যতা রোধ ও সঠিক পানীয়: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন। কৃত্রিম রং মেশানো জুস বা কোল্ড ড্রিংকস এড়িয়ে চলুন। ডাবের পানি কিংবা ঘরে তৈরি তাজা ফলের রস ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

ভাজাপোড়া বাদ দিন: বেগুনি, পেঁয়াজি বা জিলাপি খাওয়ার লোভ সামলাতে হবে। এগুলোর পরিবর্তে ছোলা সেদ্ধ, দই-চিড়া বা বেশি বেশি তাজা ফল খান।

খাবার সংরক্ষণে সতর্কতা: গরমের সময় খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই সেহরি কিংবা ইফতারের খাবার দীর্ঘক্ষণ বাইরে ফেলে রাখবেন না। পুনরায় গরম করার সময় নিশ্চিত করুন, খাবারটি ঠিকমতো গরম হয়েছে কি না।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: খাবার তৈরি ও খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। থালাবাসন ধোয়ার ক্ষেত্রেও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করুন।

আক্রান্ত হলে করণীয়

যদি ফুড পয়জনিং হয়েই যায়, তাহলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ নিন। সেগুলো হলো—

ওআরএস বা খাওয়ার স্যালাইন: শরীরে পানিশূন্যতা রোধে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর পর্যাপ্ত স্যালাইন পান করুন। রাইস স্যালাইন এ ক্ষেত্রে অনেক কার্যকর।

বিশ্রাম: শরীর সেরে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।

তরল খাবার: চিড়া ভেজানো পানি, ডাবের পানি কিংবা জাউ ভাতজাতীয় হালকা খাবার খান।

ডাক্তারের পরামর্শ: যদি বমি না থামে, মলের সঙ্গে রক্ত যায় কিংবা তীব্র জ্বর আসে, তাহলে দেরি না করে কাছের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক অথবা বমি কমানোর ওষুধ সেবন করবেন না।

রোজা আমাদের ধৈর্য ও শৃঙ্খলার শিক্ষা দেয়। সেই শৃঙ্খলা যদি আমরা খাদ্যাভ্যাসেও ঠিকভাবে বজায় রাখতে পারি, তাহলে ফুড পয়জনিংয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করে সুস্থ এবং সুন্দরভাবে রমজানের ইবাদত সম্পন্ন করাই হোক সবার লক্ষ্য।

কিডনি রোগীরা রোজায় কীভাবে খাবেন

সরকারি হাসপাতালে হাজিরা দিয়েই চেম্বারে চিকিৎসক, নিবন্ধন স্থগিতের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ের

কয় ঘণ্টা ঘুমালে কমবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি, জানালেন গবেষকেরা

চীনকে চিকিৎসায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

সংক্রামক ব্যাধিমুক্ত থাকতে চিকিৎসকের পরামর্শ

রমজানে চোখের যত্নে যা করবেন

রমজানে থাইরয়েড রোগীদের করণীয়

সেহরির পর ভালো ঘুমে যা করতে পারেন

ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল বাড়ে না, গবেষণার তথ্য

হাজার মানুষের জন্য হাসপাতালে একটি শয্যা