হোম > স্বাস্থ্য > চিকিৎসকের পরামর্শ

মস্তিষ্কের জন্য চাই সঠিক খাবার

আলমগীর আলম

মানুষের মস্তিষ্ক ২০ শতাংশ শক্তি কিংবা ক্যালরি ব্যবহার করে। এই শক্তি মূলত আসে খাদ্য থেকে পাওয়া গ্লুকোজ এবং পুষ্টি উপাদান থেকে। মস্তিষ্ক শরীরে একটি জটিল অঙ্গ, যা সঠিক পুষ্টি ছাড়া কোনোভাবে সর্বোচ্চ দক্ষতায় কাজ করতে পারে না। পুষ্টিকর খাবার শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যই নয়, মানসিক সুস্থতা, সৃজনশীলতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি। সে কারণে ‘জ্বালানি’ যত সঠিক হবে, মস্তিষ্ক ততই প্রখর হবে।

সঠিক জ্বালানি কেন গুরুত্বপূর্ণ

কম গ্লাইসেমিক সূচকের খাবার ধীরে শক্তি ছাড়ে, যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা স্থির রাখতে সহায়তা করে। নিউরোপ্লাস্টিসিটি পুষ্টি মস্তিষ্কের কোষের পুনর্গঠন এবং নতুন সংযোগ তৈরিতে সহায়ক। মানসিক স্বাস্থ্যের গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয় ডায়েট বিষণ্নতার ঝুঁকি কমায় ৩০ শতাংশ।

পুষ্টি ঘাটতির প্রভাব আমাদের এমন পর্যায়ে নিতে যেতে পারে, যা থেকে অনেক ক্ষণস্থায়ী সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আছে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি, ব্রেন ফগ, মুড সুইং ইত্যাদি। এগুলো আবার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি করতে পারে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে স্মৃতিভ্রংশ, হতাশা, স্নায়বিক রোগ, পার্কিনসন, আলঝেইমারের মতো কঠিন ও অনিরাময়যোগ্য রোগ। এ ছাড়া ভুল খাবার মানসিক চাপ বাড়ায়, অতিরিক্ত চিনি, ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তে শর্করার ওঠানামা ঘটায়, মস্তিষ্কে ইনফ্লেমেশন বাড়ায়, ক্লান্তি ও মানসিক অস্থিরতা বাড়ায়। সে জন্য সুন্দরভাবে পরিবেশিত খাবার মন প্রশান্ত করে, রঙিন সবজি মন সতেজ করে, রান্নার সুগন্ধ স্মৃতি জাগায়, আবেগে ছোঁয়া দেয়। এ জন্য বলা হয়, আমরা প্রথমে চোখ দিয়ে খাই, তারপর মুখ দিয়ে।

মস্তিষ্কের জ্বালানি

গ্লুকোজ: মস্তিষ্কের প্রাথমিক জ্বালানি, যা কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা থেকে পাওয়া যায়।

ফ্যাটি অ্যাসিড (ওমেগা-৩): মস্তিষ্কের কোষের ঝিল্লি গঠন করে এবং স্নায়ু সংকেত পাঠাতে সাহায্য করে।

অ্যামিনো অ্যাসিড বা প্রোটিন: সেরোটোনিন অথবা ডোপামিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটার তৈরির মূল উপাদান।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও মানসিক স্থিতিশীলতা বাড়ায়। সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, ফ্ল্যাক্স সিডের মতো খাবারে এটি পাওয়া যায়।

বি ভিটামিন (বি৬, বি৯, বি১২): নিউরোট্রান্সমিটার সংশ্লেষণ, হোমোসিস্টেইনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

ডিম, মাংস, সবুজ শাকসবজি এবং ডালে বি ভিটামিন পাওয়া যায়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (ভিটামিন সি, ই, জিংক): ফ্রি র‍্যাডিকেল দূর করে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি রোধ করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, আলঝেইমারের ঝুঁকি দূর করে। বেরি, ডার্ক চকলেট, বাদাম এবং টক ফলে এটি পাওয়া যায়।

ম্যাগনেশিয়াম ও জিংক: স্নায়ু সংকেত স্থানান্তর এবং মানসিক চাপ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। কুমড়া বীজ, পালংশাক, গোটা শস্য, তিল, তিসি ইত্যাদিতে এগুলো

পাওয়া যায়।

ভিটামিন ডি: এটি সেরোটোনিন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করে। সূর্যালোক, ফর্টিফায়েড দুধ, মাশরুম থেকে এটি পাওয়া যায়।

পরামর্শ দিয়েছন: আলমগীর আলম, খাদ্যপথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ

প্রধান নির্বাহী, প্রাকৃতিক নিরাময় কেন্দ্র

হামের কারণে চোখের ক্ষতি এড়াতে কী করবেন

গরমে সাইনোসাইটিসের ব্যথা থেকে বাঁচার উপায়

চীনাদের গড় আয়ু বেড়ে ৭৯ বছর ৩ মাস

প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাদ দিন ৬ খাবার

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৩ ও শনাক্ত ৯৪৭

কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করল অধিদপ্তর

হামের টিকাদান: দুই সপ্তাহের পরিকল্পনা প্রয়োজনে সময় বাড়বে

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু, সন্দেহজনক শনাক্ত ৬৮৫

জরুরি ভিত্তিতে ৫ এপ্রিল থেকে দেওয়া হবে হামের টিকা

টিকাদান কর্মসূচি: হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি ৭৩ শতাংশ