বয়স্ক মানুষের হাড় ভাঙা ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের তেমন কার্যকর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নতুন এক বিস্তৃত গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অধিকাংশ বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি কিংবা দুটির সম্মিলিত ব্যবহারে হাড় ভাঙা বা পড়ে যাওয়ার ঘটনা কমাতে ক্লিনিক্যালি উল্লেখযোগ্য কোনো সুফল নেই।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য বিএমজে’-তে। গবেষকেরা বলছেন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিয়ে প্রচলিত সাধারণ সুপারিশগুলো নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিবছর অন্তত একবার পড়ে যান। এর ফলে অনেক সময় হাড় ভেঙে যায়, যা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়া এবং আবাসিক পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তার মতো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। ফলে বয়স্কদের পড়ে যাওয়া ও হাড় ভাঙা প্রতিরোধ জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কানাডার গবেষকেরা এ বিষয়ে ৬৯টি র্যান্ডমাইজড নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করেন। এসব গবেষণায় মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০২ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি অথবা দুটির সম্মিলিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের ফলাফল প্লাসিবো বা কোনো চিকিৎসা না নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, যে কোনো ধরনের হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের কার্যকারিতা খুবই সামান্য বা নেই। একই ফল পাওয়া গেছে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম-ভিটামিন ডির সম্মিলিত ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। কোমরের হাড় ভাঙার মতো নির্দিষ্ট ধরনের ফ্র্যাকচার এবং পড়ে যাওয়ার ঘটনাতেও এসব সাপ্লিমেন্টের উল্লেখযোগ্য প্রভাব পাওয়া যায়নি।
গবেষকেরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন, কিছু বিশ্লেষণে গবেষণার সংখ্যা ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। এ ছাড়া নির্দিষ্ট হাড়ের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা অস্টিওপোরোসিসের ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে এই ফলাফল সরাসরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
তবে বয়স, লিঙ্গ, আগে হাড় ভাঙা বা পড়ে যাওয়ার ইতিহাস এবং খাবারের মাধ্যমে ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরিমাণের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও ফলাফলে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।
গবেষকদের মতে, সাধারণভাবে হাড় ভাঙা ও পড়ে যাওয়া প্রতিরোধের জন্য ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত ব্যবহারের পক্ষে বর্তমান প্রমাণ যথেষ্ট নয়। বরং ভারসাম্য ও পেশিশক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম, বাড়ির ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।