হোম > ফ্যাক্টচেক > আজকের ফ্যাক্ট

বঙ্গবন্ধু টানেল ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকছে দাবিতে চীনের ভিডিও ভাইরাল

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে গত রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার (গত ২৭ মে) সকাল ৬টা পর্যন্ত টানা ১২টা বন্ধ ছিল চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। টানেল বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, টানেল ছিদ্র হয়ে পানি প্রবেশ করছে। এ কারণে রোববার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে মুহাম্মদ শাহজাহান নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ১ মিনিট ২১ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওটি আজ মঙ্গলবার (২৮ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ৮০০ শেয়ার হয়েছে, দেখা হয়েছে সাড়ে ৭২ হাজার বার।

ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে দেখেছে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক বিভাগ।

ভাইরাল ভিডিওটি রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধানে শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে ‘China Ascent_ 2024’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে হ্যাশট্যাগ দিয়ে ইংরেজিতে চীন, টানেল, হেভি রেইন, ডিজাস্টার লেখা রয়েছে।

এই সূত্রে পরবর্তী অনুসন্ধানে এনটিডিটিভি নামে একটি ওয়েবসাইটেও ভিডিওটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওয়েবসাইটটির পরিচিতিতে দাবি করা হয়েছে, চায়নিজ টিভি নিউজ নেটওয়ার্ক হলো চীনের বৃহত্তম সংবাদমাধ্যম।

গতকাল সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, চীনের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের শহর চংকিংয়ে অবস্থিত তুঝু টানেল ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকছে। এই টানেল চালু হয়েছে তিন বছরেরও কম সময় আগে। এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ভিডিওর সঙ্গেও ভাইরাল ভিডিওটির মিল রয়েছে।

এমন তথ্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু টানেলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে বঙ্গবন্ধু টানেলের দেয়ালের নকশা ও রঙের পার্থক্য দেখা যায়।

এ ছাড়া দেশীয় কোনো সংবাদমাধ্যমেও ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে বঙ্গবন্ধু টানেলে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সকালে যান চলাচলের জন্য টানেলটি খুলে দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com