সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা-এর নামে একটি বক্তব্য সংবলিত ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দাবি করা হচ্ছে, তিনি বলেছেন—‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাওয়ার নয়; বরং ৫০ গুণ শক্তিশালী হয়ে আসবে।’
‘দৈনিক আমাদের খবর’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ৮টায় একটি পোস্ট করা হয়, যা সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট এবং এটিই সবচেয়ে বেশি শেয়ার হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ২টা পর্যন্ত পোস্টটিতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ রিয়েকশন, ১২০টি কমেন্ট এবং ৪৯টি শেয়ার রয়েছে।
ভাইরাল ফটোকার্ডে প্রচারিত এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী বিষয়টিকে সত্য ধরে নিয়ে কমেন্ট করেছেন। একজন কমেন্ট করেছেন, ‘ইতিহাস এরকমই বলে। যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা এটা মাথায় রাখেনি, বিশ্বাস ও করেনি।’ আবার কেউ বলেছেন, ‘সংসদে আইন তো তারাই পাস করেছিল, এখন সেই আইনই তাদের ওপর প্রয়োগ হচ্ছে।’ অন্য একজন কমেন্ট করেছেন, ‘নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই তো পালিয়েছে, এখন বিএনপির দোষ হচ্ছে।’ আরেকজন আবার ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘৫০০ গুণ না? 😂।’ (লেখা ও বানান অপরিবর্তিত)
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়ে কোনো সংবাদমাধ্যমে মাশরাফি বিন মুর্তজার এমন বক্তব্যের প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে মাশরাফির ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলো পর্যবেক্ষণ করেও আলোচিত দাবি সংশ্লিষ্ট পক্ষে কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘Daily Ajker Kantho’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ৮ এপ্রিল ‘আওয়ামী লীগ হারিয়ে যাওয়ার নয়, ৫০ গুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরবে: ড. কার্জন’ —শিরোনামে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়।
ওই পোস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী একটি দল, যার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভিত্তি গভীরে প্রোথিত, তাকে আইন করে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। বরং রাজনৈতিক চাপের মুখে দলটি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারে।
পোস্টে ড. কার্জনের বরাত দিয়ে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাংবিধানিকভাবে টেকসই নাও হতে পারে এবং এটি ভবিষ্যতে অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি শেখ হাসিনা-এর ভূমিকা ও দেশপ্রেমের মূল্যায়নের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি অনুষ্ঠান থেকে লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক পান্না, অধ্যাপক কার্জন ও আব্দুল্লাহীল কাইউমসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ নভেম্বর অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের জামিন দেন হাইকোর্ট।
সাধারণত কোনো মাশরাফির মতো সেলিব্রিটি এমন মন্তব্য করলে তা গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা ভিডিও পাওয়া যায়নি। বরং দেখা গেছে, বক্তব্যটি প্রথমে ‘আজকের কণ্ঠ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের উদ্ধৃতি হিসেবে শেয়ার করা হয়। পরবর্তীতে সেই একই বক্তব্য মাশরাফি বিন মুর্তজার নামে প্রচার করা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত
মাশরাফি বিন মুর্তজার নামে ‘আওয়ামী লীগ ৫০ গুণ শক্তিশালী হয়ে ফিরবে’—এমন মন্তব্য সম্বলিত ফটোকার্ডটি ভুয়া। এ ধরনের কোনো বক্তব্য তিনি দেননি। আওয়ামী লীগের সমর্থনে নিয়মিত পোস্ট শেয়ার করা একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের উদ্ধৃতি মাশরাফির নামে প্রচার করা হয়েছে।