হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

নিজেদের আমলে শ্লীলতাহানির ঘটনাকে বিএনপি শাসনামলের বলে প্রচার করছে আওয়ামী লীগ

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

বিএনপির শাসনামলে দেশে মেয়েরা রাস্তায় নিরাপদ নয় দাবিতে প্রচার। ছবি: স্ক্রিনশট

বিএনপির শাসনামলে আমাদের মেয়েরা রাস্তায় নিরাপদ নয়—এমন দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শেয়ার করা ওই ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং যখনই বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, তখনই নারীরা নির্যাতন, ভয়ভীতি ও সহিংসতার ঝুঁকির মুখে বেশি পড়েছেন।

আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট ছাড়াও ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’, ‘মিঠাপুকুর আওয়ামীলীগ পরিবার’, ‘Ashraful Islam Shohag’ , ‘Sujit Kumar Dutta’, ‘Md Joha Islam - মোঃ জোহা ইসলাম’-সহ বেশ কিছু পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

শেয়ার করা পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ নেটিজেন ঘটনাটিকে সত্য মনে করেছেন। তাঁরা নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে কমেন্ট করেছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

ভিডিওটিতে দেখা যায়, জোব্বা পরিহিত এক তরুণ স্কুলড্রেস পরা এক কিশোরীকে অনুসরণ করছেন। একপর্যায়ে ওই তরুণ মেয়েটিকে আচমকা জাপটে ধরে মুখে চুমু দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।

তবে পোস্টে ঘটনাটি ঠিক কবেকার বা কোথায় ঘটেছিল, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জাতীয় কোনো গণমাধ্যমেও বিএনপির শাসনামলের বলে প্রচারিত এই দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা প্রমাণ মেলেনি।

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধান করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। অনুসন্ধানে ‘শিমুল বাগান, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ শেয়ার করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে সিসিটিভি ফুটেজের তারিখ ও বারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

এই সূত্র ধরে আরও অনুসন্ধানে ‘আনন্দ টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজেও ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ শেয়ার করা একই ভিডিও পাওয়া যায়, যার ক্যাপশনে দাবি করা হয়—‘স্কুলছাত্রীকে জোর করে চুমু খেয়ে পুলিশের হাতে হাফেজ আটক’।

আনন্দ টিভির ফেসবুক পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ‘স্কুলছাত্রীকে জোর করে চুমু, মাদরাসাছাত্র গ্রেপ্তার’ শিরোনামে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘নিউজ২৪’-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের ছবির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর একটি দৃশ্যের মিল রয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ১৭ মার্চ সকাল পৌনে ৯টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালিতলা এলাকায় ঘটেছিল। সেখানে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী তার চাচাতো বোনের বাড়িতে যাওয়ার সময় সাখাওয়াত হোসেন (২০) নামের এক মাদ্রাসাছাত্র তাকে জাপটে ধরে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত সাখাওয়াতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

সে সময়ের দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিনের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার পর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবার দাবি করে, সাখাওয়াত কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ও চিকিৎসাধীন ছিলেন।

কম্পেরিজন। ছবি: স্ক্রিনশট

সিদ্ধান্ত

২০২৪ সালের মার্চে দিনাজপুর শহরে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার সিসিটিভি ফুটেজকে ‘বিএনপির শাসনামলে মেয়েরা রাস্তায় নিরাপদ ছিল না’ বলে প্রচার করছে আওয়ামী লীগ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com

বিমানবন্দরে মাদকসহ আটক ভারতীয় নাগরিকের ঘটনাকে জুলাই আন্দোলনের নেতা দাবিতে প্রচার

গাইবান্ধায় কলেজছাত্র খুন ও বাড়িতে হামলার ঘটনাটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের, রাজনৈতিক নয়

আফগানিস্তানে জঙ্গি প্রশিক্ষণের ভিডিওকে বাংলাদেশের দাবিতে প্রচার

মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিওটি ২০২২ সালের

ছাত্রলীগের মিছিল নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ের খবরটি ভারতের, জামায়াত নেতার নামে মিথ্যা প্রচার

জুলাই আন্দোলনের ভিডিওকে আ. লীগের মিছিল দাবিতে প্রচার

সুনামগঞ্জের ‘চোর নির্মূল কমিটি’র অভিযানকে সাম্প্রদায়িক নির্যাতন বলে প্রচার

‘ছেলের সামনে থেকে মাকে তুলে নিয়ে যাওয়া’র ভিডিওটি ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বানানো

কুমিল্লায় শিশু নির্যাতনের ভিডিওকে আ.লীগ নেতার ছেলেকে হত্যা দাবিতে প্রচার