হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

চুরির অভিযোগে বোরকা পরা যুবককে পিটুনির ভিডিওকে হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ বলে প্রচার

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিতে ছড়ানো ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।

ভিডিওটি শেয়ার করে কেউ কেউ ক্যাপশনে দাবি করছেন, ‘এমপির অনুমতি ছাড়া খুন-ধর্ষণের কোনো নিউজ যেন না হয়—বিএনপি নেতার হুঁশিয়ারি; অনেক ক্ষমতা বড় ভাইয়ের, নেতা বলে কথা!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এমন কিছু ভিডিও রয়েছে এখানে, এখানে এবং এখানে

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

প্রচারিত ভিডিওতে নীল টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার ঠেন (কাছ থেকে) না শুনে আর এমপির ঠেন না শুনে যেন কোনো নিউজ হয় না কিন্তু। ঠিক আছে?’ এ সময় অন্য একজনকে সায় দিয়ে ‘আচ্ছা’ বলতে শোনা যায়।

‘নতুন কিছু দেখি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ভিডিওটিতে এই (নীল টি-শার্ট পরা ব্যক্তির) মন্তব্যের পাশাপাশি অন-স্ক্রিন লেখায় দাবি করা হয়, ‘একজন হিন্দু বোনকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে, পড়ে আছে ধর্ষিতা বোনের লাশ, অন্যদিকে নেতার হুমকি নিউজ যেন না হয়’। ভিডিওতে ‘খুলনা’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়।

তবে অনুসন্ধানে জাতীয় কোনো গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এমন ঘটনার সঙ্গে কোনো হিন্দু সম্প্রদায়, নারী নির্যাতন বা ধর্ষণের ঘটনার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে ‘Bbarta24’ নামের একটি সংবাদমাধ্যমে ‘বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে যুবক আটক, সংবাদ প্রকাশ না করতে হুমকি’ শিরোনামে গত ১৪ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে।

বিবার্তা২৪-এর প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে ইসরাইল (৩০) নামে এক যুবককে স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হন। পরে স্থানীয়রাই তাঁকে হাসপাতালে পাঠায়। গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সেমারুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। সে সময় তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমার কথা না শুনে যেন কোনো নিউজ না হয়, নিউজ হলে খবর আছে।’

প্রতিবেদনে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়, মণ্ডলপাড়া গ্রামের মকলেছুর রহমানের বাড়িতে বোরকা পরে ইসরাইল প্রবেশ করেন। তিনি মোবাইল ফোন চুরির চেষ্টা করছিলেন। এ সময় মকলেছুর রহমানের স্ত্রী মালা খাতুন টের পেয়ে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করেন। ইসরাইল পালানোর চেষ্টা করলে মালা খাতুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে আটক করেন এবং মারধর করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আড়িয়া এলাকায় একজন ব্যক্তিকে নারীদের পোশাক পরা অবস্থায় চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা মারধর করেন। তাঁর পা ও কোমরে আঘাত লাগে। তবে চুরির অভিযোগের পক্ষে কোনো সঠিক আলামত পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

একই ঘটনা নিয়ে জাগো নিউজ২৪দৈনিক কালবেলাসহ বেশকিছু জাতীয় গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেসব প্রতিবেদনের ভিডিও ও ছবির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর মিল থাকলেও কোথাও ধর্ষণ বা খুন সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কম্পেরিজন: আজকের পত্রিকা

সিদ্ধান্ত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বোরকা পরে চুরি করতে গিয়ে আটক যুবকের ও স্থানীয় প্রভাবশালীর হুমকির ভিডিওকে ‘হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা’ এবং ‘ধর্ষণের নিউজ না করার হুমকি’ দাবিতে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর ছড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com