হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

আ.লীগ নেতার শিশুসন্তানকে ধর্ষণ ও হত্যা দাবিতে ছড়ানো হলো বিহারের ভিডিও

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

আওয়ামীলীগ নেতার সন্তানকে হত্যার দাবিতে ছড়ানো ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার সাত বছরের শিশু সন্তানকে বিএনপির সন্ত্রাসীরা ধর্ষণ ও হত্যা করেছে—এমন চাঞ্চল্যকর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকের একাধিক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে ৬ সেকেন্ডের ভিডিওটি শেয়ার করে সম্প্রতি চট্টগ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। শেয়ার করা পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী ভিডিওটিকে সাম্প্রতিক ও সত্য মনে করে কমেন্ট করছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে লাল পোশাক পরা একটি মেয়ের নিথর দেহ এবং এক ব্যক্তিকে শিশুটির মুখের ওপর থাকা জামা সরিয়ে দিতে দেখা যায়।

তবে প্রচারিত পোস্টগুলোতে ভিডিওটি আওয়ামী লীগ বা চট্টগ্রাম যুবলীগ নেতার সন্তানের ঘটনা বলা হলেও, এটি চট্টগ্রামের ঠিক কোন এলাকায় বা কবে ঘটেছে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ‘Md Hanif’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ২১ মে শেয়ার করা একটি ছবি পাওয়া যায়, যার সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর দৃশ্যগত মিল রয়েছে। তবে প্রচারিত ওই পোস্টে দাবি করা হয়, ঘটনাটি ময়মনসিংহের এক ভুট্টা খেতে ঘটেছে। সময়ের ব্যবধানে একই ভিডিও চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের দাবিতে প্রচারিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

ময়মনসিংহের দাবিতে ছড়ানো পোস্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

পরে আরও অনুসন্ধানে ‘Hasan Shabab’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। চলতি বছরের গত ১ মার্চ পোস্ট করা ওই ভিডিওটির হিন্দি ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি ভারতের বিহার রাজ্যের কাটিহার জেলার সন্দলপুর গ্রামের।

ঘটনাটির বিস্তারিত জানতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হলে চলতি বছরের ২ মার্চ ইন্ডিয়া টুডে-এর অনলাইন সংস্করণে ‘Bihar teen slits 9-year-old’s throat after she complained about his substance abuse’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের বিহার রাজ্যের কাটিহার জেলার সন্দলপুর গ্রামে ৯ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তার মরদেহ একটি ভুট্টা খেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই গ্রামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, অভিযুক্ত কিশোরের মাদক গ্রহণের অভ্যাস নিয়ে শিশুটি তার অভিভাবকদের কাছে অভিযোগ করেছিল। এ নিয়ে কিশোরকে বকাঝকা করা হয়। সেই ক্ষোভ থেকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে।

আজকের পত্রিকার তুলনাচিত্র

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুন মাসে একই ভিডিও ময়মনসিংহে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিতে ছড়ানো হলে, সে সময় বিষয়টি নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আজকের পত্রিকা।

সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রামে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হাতে যুবলীগ নেতার শিশুকন্যা নিহত হওয়ার দাবিটি ভিত্তিহীন। মূলত ভিডিওটি ভারতের বিহার রাজ্যের কাটিহার জেলার সন্দলপুর গ্রামে নয় বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে হত্যার ঘটনা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com