গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ তিন দফা দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে বসেছেন। ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া এই অনশনের ইতিমধ্যে ৭০ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এরই মধ্যে গতকাল থেকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে শেয়ার করা পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, অনশনরত শিক্ষার্থীরা লুকিয়ে আপেল ও জুস খাচ্ছেন। একই ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন পোস্টে কোথাও বলা হচ্ছে, অনশন ভেঙে আপেল খাচ্ছেন, আবার কোথাও বলা হচ্ছে, জুস পান করছেন। অনেক ব্যবহারকারী এসব ছবি সত্য মনে করে শেয়ার ও মন্তব্য করছেন।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, লুকিয়ে জুস খাওয়ার দাবিতে ভাইরাল ছবির সঙ্গে অনশনরত শিক্ষার্থী সাকিবের বাস্তব চেহারার অমিল রয়েছে। এ ছাড়া সিসিটিভির ফুটেজ দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একই সময় উল্লেখ, জুস পানরত শিক্ষার্থীর বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল অস্বাভাবিক বড়, ছবির সময়— ৩০ মিনিট ১২৩৩০১ সেকেন্ড ইত্যাদি অসঙ্গতি দেখা যায়।
দৃশ্যমান এসব অসঙ্গতির কারণে ছবিটি গুগলের এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি দিয়ে যাচাই করে দেখা যায়, এটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত। এ ছাড়াও, এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশনেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
ক্যাপশন
লুকিয়ে জুস পানের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবির এআই বিশ্লেষণ। ছবি: স্ক্রিনশট
যাচাইয়ে একই ঘটনায় আপেল খাওয়ার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবির ডান কোণে গুগলের জেমিনি এআই (Gemini AI)-এর সাদা লোগো দেখা যায়। সাধারণত গুগলের এই এআই চ্যাটবট ব্যবহার করে ছবি তৈরি বা সম্পাদনা করা হলে এমন জলছাপ থাকে। এআই শনাক্তকারী টুল সিন্থআইডি দিয়ে যাচাই করে দেখা যায়, ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত।
ক্যাপশন
অনশনে বসে আপেল খাওয়ার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ছবির এআই বিশ্লেষণ। ছবি: স্ক্রিনশট
এ ছাড়া রিভার্স ইমেজ সার্চ করে জাতীয় গণমাধ্যম ঢাকা মেইলের একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ভাইরাল ছবির মিল পাওয়া যায়। অর্থাৎ, ভাইরাল ছবিতে পরবর্তীতে কৃত্রিমভাবে আপেল যুক্ত করা হয়েছে। ছবিতে অন্য লোকজনের অবস্থান ও আলো-ছায়া বিশ্লেষণেও দেখা যায়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল এডিটিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা।
সিদ্ধান্ত
অনশনরত ঢাবি শিক্ষার্থীরা আপেল বা জুস খাচ্ছেন—এমন দাবিতে ছড়ানো ছবিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদনা করা।