‘গণভোটের রায় না মানলে বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, বিএনপির উচিত হবে সময় থাকতে মেনে নেওয়া’—এই বক্তব্য আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলমের দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডে তাঁর ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে, এখানে , এখানে এবং এখানে ।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, কোনো তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া ফটোকার্ডে শহিদুল আলমের নামের নিচে ‘ডিপ স্টেট এজেন্ট’ লেখা।
বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধানে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে এমন মন্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তাঁর ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলোতেও আলোচিত বক্তব্যের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি করা হয় ‘দৈনিক মোল্লার দেশ’ নামের একটি স্যাটায়ারধর্মী ফেসবুক পেজ থেকে। পরবর্তীতে সেখান থেকেই বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ও পেজের মাধ্যমে ফটোকার্ডটি ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেকেই সেটিকে সত্য মনে করে শেয়ার করেছেন।
অনুসন্ধানে ‘জনগণের রায়ে গদিতে বসে গণভোটের রায় মানতে টালবাহানা কেন— বিএনপিকে প্রশ্ন শহিদুল আলমের’ শিরোনামে দৈনিক ইত্তেফাকের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
দৈনিক ইত্তেফাকে ২৯ মার্চ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জুলাই সনদ’-এর সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনে বিলম্বের সমালোচনা করেন আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী ড. শহিদুল আলম। তিনি বলেন, জনগণের রায় মেনেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে; কিন্তু সেই জনগণের রায়েরই অংশ হিসেবে গণভোটের ফলাফল মানতে তারা কেন টালবাহানা করছে—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের উদ্দেশে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তারা কেন ক্ষমতায় এসেছে এবং কেন স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে—এ বিষয়গুলো ভুলে গেলে চলবে না। সংবিধানের সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থান বা রাজনৈতিক বাস্তবতার অনেক বিষয় সংবিধানে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও জনগণ তা গ্রহণ করেছে।
তাঁর এই বক্তব্যের কোথাও ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা’ বা আলোচিত ফটোকার্ডে প্রচারিত বক্তব্যের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
সিদ্ধান্ত
গণভোটের রায় না মানলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেবে—এমন কোনো বক্তব্য শহিদুল আলম দিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুতরাং, আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি ভুয়া।