জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অদিতি মহসিনের ব্যক্তিগত মতামত ও দাম্পত্যসম্পর্ক নিয়ে দুটি ভিন্ন উদ্ধৃতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, মা-বাবা কষ্ট পাবেন ভেবে তিনি নিজের পছন্দের মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেননি। অন্য একটি ফটোকার্ডে সংসার ও পুরুষের আচরণ নিয়ে তাঁর মন্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা এসব ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে নেটিজেনদের আলোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সম্ভাব্য প্রথম ফটোকার্ডটিতে লেখা হয়, ‘বাবা-মা কষ্ট পাবেন ভেবে নিজের পছন্দের মানুষকে বেছে নিইনি। আজ মনে হয়, সেই ভাবনাটা ভুল ছিল। নিজের জন্য একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।’
বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আইয়ের পাশাপাশি একই দাবিতে ‘নিউজ টুয়েন্টিফোর’ , ‘Faporbaz’ , ‘BongoGraph’ , ‘Cultural Classicists’ , ‘The News Entertainment’ ও ‘সদ্য সংবাদ’সহ বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট থেকেও ফটোকার্ডটি ছড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) শেয়ার করা একই শিল্পীর নামে চ্যানেল আই-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরও একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। সেখানে লেখা হয়, ‘সংসারে অভাব থাকলে মানিয়ে নেওয়া যায়, কষ্ট সহ্য করেও সংসার টিকিয়ে রাখা যায়। কিন্তু একজন কাপুরুষ, অত্যাচারী, চরিত্রহীন ও অতিরিক্ত মা-ভক্ত পুরুষের সঙ্গে সুখের সংসার করা সত্যিই কঠিন।’
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ড দুটির সত্যতা অনুসন্ধানে দেখা যায়, গতকাল অদিতি মহসিনের নামে প্রচারিত দ্বিতীয় ফটোকার্ডটি ফেসবুক পেজে পাওয়া না গেলেও চ্যানেল আই-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে গত ১১ সেপ্টেম্বর ‘Baby Health Tips’ নামের ফেসবুক পেজে প্রায় একই তথ্য-সংবলিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ওই পোস্টে বলা হয়, ‘সংসারে অভাব থাকলে মানিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু কাপুরুষ অত্যাচারী, অতিরিক্ত মা-ভক্ত পুরুষ—এদের সংসার করা যায় না..!! 😟💔’ (লেখা ও বানান অপরিবর্তিত)। তবে ওই পোস্টে কারও উদ্ধৃতি পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা এবং এর প্রতিবাদ জানিয়ে অদিতি মহসিন যে পোস্ট দিয়েছেন, সেখানে শেয়ার করা চ্যানেল আইয়ের ফটোকার্ডে ‘২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬’ লেখা রয়েছে। তবে চ্যানেল আইয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে বর্তমানে কার্ডটি নেই।
এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ফটোকার্ডটি চ্যানেল আইয়ের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়েছিল।
আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে অদিতি মহসিন ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে চ্যানেল আইয়ের ফটোকার্ড দুটি শেয়ার করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অদিতি মহসিন লিখেছেন, চ্যানেল আইয়ের ডিজিটাল পেজ থেকে তাঁর নামে এসব ফটোকার্ড বা কনটেন্ট প্রকাশ করা হচ্ছে এবং সেগুলো ভাইরাল হচ্ছে। তাঁর কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী ও বন্ধু বিষয়গুলো তাঁর নজরে এনেছেন।
অদিতি মহসিন আরও লেখেন, চ্যানেল আইয়ে তিনি সুদূর অতীতেও কোনো সাক্ষাৎকার দেননি। অন্য কোনো চ্যানেল বা মাধ্যমেও সাক্ষাৎকার কিংবা পডকাস্টে এ ধরনের ‘ব্যক্তিগত ও কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্য দেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বক্তব্যের কোনো সত্যতা নেই।
নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অদিতি মহসিন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও যথাযথ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
সিদ্ধান্ত
রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অদিতি মহসিনের নামে ব্যক্তিগত মতামত ও দাম্পত্যসম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত দুটি উদ্ধৃতিই ভুয়া।