‘ভারতে দুইজন খ্যাতনামা পণ্ডিত ও ধনাঢ্য ব্যক্তি একসঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেছেন’—এমন দাবিতে ফেসবুকে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট হুবহু ফটোকার্ড ছড়ানো হচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি শেয়ার করা হয় ‘উত্তরণ শিক্ষালয়’ নামের একটি পেজ থেকে। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর পোস্টটি শেয়ার করা হয়। এই পোস্টটিই সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা পর্যন্ত এতে ১৯ হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে। এটি ৩ হাজার ৪০০ বার শেয়ার হয়েছে এবং প্রায় ২ হাজার মন্তব্য রয়েছে।
পোস্টের মন্তব্যগুলো যাচাই করে দেখা যায়, বেশিরভাগ মন্তব্যকারী বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। অবশ্য কেউ কেউ এটিকে ভুয়া বলেও দাবি করেছেন।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে—এখানে, এখানে, এখানে
এবং এখানে।
দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে শুরুতেই প্রচারিত ভাইরাল ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। প্রচারিত ফটোকার্ডে আলোচিত দাবির বিষয়ে কোনো সূত্রের উল্লেখ নেই।
ফটোকার্ডের নিচের অংশে ‘RAJON TALUKDAR’, ‘আপডেট তথ্য পেতে ফলো করুন’ এবং ‘১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬’ লেখা।
অনুসন্ধানে ‘RAJON TALUKDAR’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই দিনে একই ফটোকার্ড শেয়ার করতে দেখা যায়, সেই পোস্টেও কোনো সূত্রের উল্লেখ নেই। অনুসন্ধানে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পেজে শেয়ার করা ফটোকার্ডগুলো পর্যালোচনা করেও কোনো সূত্রের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আলোচিত দাবির বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে খোঁজ করলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ সম্পর্কিত কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর ‘Wasim Rizvi, ex-chairman of Shia Waqf Board in UP, converts to Hinduism’ শিরোনামে একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। ফটোকার্ডে প্রকাশিত এক ব্যক্তির ছবির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে।
এ ছাড়া পোস্টের ক্যাপশনে দেওয়া লিংকে একই শিরোনামে প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের শিয়া ওয়াক্ফ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াসিম রিজভী সোমবার ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন। গাজিয়াবাদের দাসনা দেবী মন্দিরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নরসিংহানন্দ সরস্বতীর উপস্থিতিতে এই ধর্মান্তর সম্পন্ন হয়। যজ্ঞ ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে তিনি ইসলাম ত্যাগ করে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন এবং শিবলিঙ্গে দুধ অর্পণ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ধর্মান্তরের পর তিনি ত্যাগী (তিয়াগি) সম্প্রদায়ভুক্ত হন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে জিতেন্দ্র নারায়ণ সিং ত্যাগী রাখেন। তিনি বলেন, ৬ ডিসেম্বর দিনটিকে পবিত্র মনে করেই এদিন ধর্মান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কারণ ১৯৯২ সালের এই দিনে বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছিল।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি হিন্দু ধর্মকে বিশ্বের সবচেয়ে বিশুদ্ধ ধর্ম বলে মন্তব্য করেন এবং জানান, এখন থেকে তিনি হিন্দুধর্মের জন্য কাজ করবেন।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম OpIndia.com-এ ‘Wasim Rizvi becomes Jitendra Narayan Swami: Former Shia Waqf Board chief reverts to Hinduism at Dasna temple’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির হুবহু মিল রয়েছে।
এ ছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-এর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলেও বিষয়টি নিয়ে একই তথ্যসম্বলিত প্রতিবেদন রয়েছে।
সুতরাং, আলোচিত দাবিটি সঠিক নয়। বরং ২০২১ সালে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করা এক ব্যক্তিকে উল্টো দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।