ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে মার্কিন পুলিশ ভয়ে আজান দিতে শুরু করেছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে এমন দাবি নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
‘বুঝে থাকলে বলুন আপনি কী বলবেন, লাইক-শেয়ার আর আপনার মতামত’—এই ক্যাপশনে Anayet Ollah নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট করা হয় ৬ মার্চ রাত ১০টা ২২ মিনিটে। পোস্টটিতে আজ সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার রিয়েকশন পড়েছে। এ ছাড়া পোস্টটি ২ হাজার ৯০০ শেয়ার ও ৫৪৬টি কমেন্ট পেয়েছে।
পোস্টের কমেন্ট যাচাই করে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহাকারী দাবিটিকে সত্য ধরে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘ঘটনা সত্য হলে আলহামদুলিল্লাহ।’
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোতে কোনো সূত্রের উল্লেখ নেই। প্রাসঙ্গিক কি–ওয়ার্ড ব্যবহার ও রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে অনুসন্ধানে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)-এর আলবার্টা শাখার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল পোস্ট করা ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির ব্যক্তির হুবহু মিল রয়েছে। পোস্টে আলবার্টা পুলিশ জানায়, আকরাম জুমা মসজিদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে রমজান উদযাপনের অংশ হতে পেরে তাঁরা সম্মানিত বোধ করছেন।
এ ছাড়া তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম ‘TRT World’ ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করে।
পোস্টে বলা হয়, কানাডার অ্যাডমন্টন ও ক্যালগেরি শহরে রমজান মাসে কিছু মসজিদকে সূর্যাস্তের সময় (মাগরিব) আজান দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা নাদের খলিল ক্যালগেরির আকরাম জুমা মসজিদে প্রথমবারের মতো আজান দেন।
সিদ্ধান্ত
ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে মার্কিন পুলিশ আজান দিচ্ছে—ফটোকার্ডের এই দাবি সঠিক নয়। এটি মূলত ২০২১ সালে কানাডার ক্যালগেরি শহরের একটি মসজিদে রমজান মাসে প্রকাশ্যে প্রথম আজান দেওয়ার ঘটনার ভিডিও থেকে নেওয়া স্থিরচিত্র।