হোম > প্রবাস

কানাডার রাজধানীতে শুরু হয়েছে টিউলিপ উৎসব

মাহফুজুল কাদের, কানাডার অন্টারিও থেকে

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় শুরু হয়েছে টিউলিপ উৎসব। টিউলিপ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে উৎসবে শামিল হয়েছেন রাজধানীবাসী। ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় এখন বসন্তকাল। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে প্রকৃতি। তবে সবার নজর কাড়ছে টিউলিপ। বসন্তের আবিরে ৮ মে থেকে দেশটির রাজধানী অটোয়ায় শুরু হয়েছে টিউলিপ ফুলের (কুঁড়ি) প্রদর্শনী। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রস্ফুটিত টিউলিপ উৎসব বলে বিবেচিত।

টিউলিপ ফুলে ভরে উঠেছে বাগান। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিস্তৃত মেট্রোপলিটান এলাকাজুড়ে ফুটেছে টিউলিপ। রি’ডিউ লেক থেকে কুইন এলিজাবেথ ড্রাইভওয়ে পর্যন্ত, দাও’স লেকের পাশের উপত্যকা তথা কমিশনারস পার্ক সংলগ্ন এলাকাজুড়ে এবং অটোয়া নদীর প্রান্ত ঘিরে চ্যাঁতেউ ল’রিয়ার চত্বরে, ফেডারেল পার্লামেন্ট হিল পরিবেষ্টিত এলাকা এবং ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি পর্যন্ত টিউলিপের অন্তত ২৬টি ছোট-বড় বর্ণালী বাগান ও ফুলের বাহারি রঙ ফুলপ্রেমী দর্শকদের মন মাতিয়ে তুলছে।

উৎসবের দক্ষিণ কোরিয়ান প্যাভিলিয়নে কোরীয় যুদ্ধে কানাডার সেনাদের আত্মত্যাগের কথা করিওগ্রাফিক ড্রিলের মাধ্যমে স্মরণ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

তবে দাও’স লেকের পাশের কমিশনারস পার্কে ফোটা বাহারি রঙের টিউলিপ বাগান দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র। এই পার্কে ফুটেছে তিন লাখের বেশি টিউলিপ। টিউলিপ উৎসব কেবলই বসন্তের আগমন বার্তা বহন করে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় বন্ধন।

টিউলিপ উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

বৃহত্তর অটোয়াজুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কুঁড়ির সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে পর্যটন সেবাপ্রদানকারী সংস্থাদের দাবি। তা উপভোগের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ ট্যুর এ সময় অফার করা হচ্ছে।  

টিউলিপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছেন অনেকে, ছবিও তুলছেন। ছবি: সংগৃহীত

টিউলিপের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় ১৯৪০ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন নেদারল্যান্ডসকে নাৎসীমুক্তকরণে কানাডার সেনাদের আত্মত্যাগের কথা। যুদ্ধের সময় ডাচ রানি জুলিয়ানাকে কানাডায় নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হয়। তাঁর গর্ভে ১৯৪৩ সালে অটোয়ায় রাজকুমারী মারগ্রিএট ফ্রাঞ্চিসকার জন্ম। ১৯৪৫ সালে সম্প্রীতির স্মারক হিসেবে ডাচ রানি এক লাখ টিউলিপ ফুলের কন্দ (বাল্ব) অটোয়াকে উপহার দেন। আজও ডাচ রাজপরিবার প্রতি বছর ১০ হাজার টিউলিপ ফুলের কন্দ বা বাল্ব পাঠায়। রানি মারগ্রিএট ফ্রাঞ্চিসকা উৎসব উপলক্ষে ৯ মে অটোয়ায় উপস্থিত হয়ে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

নেদারল্যান্ডস প্যাভিলিয়নে এসব গল্প নিয়ে খণ্ড খণ্ড নাটিকা উপস্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ান প্যাভিলিয়নে ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কোরীয় যুদ্ধে কানাডার সেনাদের আত্মত্যাগের কথা করিওগ্রাফিক ড্রিলের মাধ্যমে ক্যাডেটরা স্মরণ করে চলেছেন।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ৬ থেকে সাড়ে ৬ লাখ দর্শনার্থী উৎসবে আসেন। এ বছরও তার কমতি হবে না বলে আশাবাদী তাঁরা।

সরেজমিনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির অবকাশে অটোয়া টিউলিপ উৎসবে তাঁরা টরন্টো থেকে এসেছেন।

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কানাডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারীকে হত্যা, ঘাতক গ্রেপ্তার

কানাডার কিংস্টনে তুষারপাতে সিক্ত  বাংলাদেশি কমিউনিটির ঈদ উদ্‌যাপন

টরন্টোতে ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের ইফতার