এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে গত পরশু তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ হারলেও জামালদের খেলা মন ভরিয়েছে সমর্থকদের। লম্বা সময় পর বাংলাদেশের খেলায় দেখা গেছে গতি ও ছন্দের ছাপ। তবে জামাল ভূঁইয়াদের দারুণ নৈপুণ্য কিছুটা হলেও আড়াল হয়েছে ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায়। যে কারণে আক্রমণগুলোও পরিণতি পায়নি।
ফিনিশিং নিয়ে ম্যাচ শেষে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল কোচ হাভিয়ের কাবরেরাকে। তবে ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলোতেই মনোযোগ দিতে বলেছেন দেশের ফুটবল-বিশ্লেষকেরা। ইতিবাচক ফুটবলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন দুই সাবেক জাতীয় ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপু ও আলফাজ আহমেদ। তবে ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতাকে আড়াল করতে চান না তাঁরা।
বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে জানতে চাইলে গতকাল গোলাম সারোয়ার টিপু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পাস দেওয়ার জায়গায় কিছু উন্নতি হয়েছে বলে মনে হয়েছে। তবে ফিনিশিংয়ে সমস্যা থাকবেই।’ কেন এ সমস্যা সেটি বিশ্লেষণ করেছেন টিপু, ‘যেসব ক্লাব থেকে আমাদের জাতীয় দলে খেলোয়াড়েরা খেলে, তাদের একটাতেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা খেলে না। সেখানে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে বিদেশিরা। দেশের খেলোয়াড়েরা বেশির ভাগ সময় বসেই থাকে। ম্যাচ খেলতে গেলে তাদের সমস্যা হবেই। এখন বেশি আশা করলে হবে না। ক্লাবগুলোও গোলের জন্য বাইরের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে।’
গোলাম সারোয়ার টিপুর সঙ্গে অনেকটাই একমত আলফাজ। বাংলাদেশ দলের সাবেক এ ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘অন্য দিনগুলোর চেয়ে তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ দল ভালো খেলেছে। বহু দিন পর গোল পেয়েছে। কিন্তু ফিনিশিংয়ে দুর্বলতা দেখে মনে হয়েছে, ১৪ বছর আগে দল যেখানে ছিল, এখনো সেখানেই আছে। দলে আরও ভালো ফিনিশার দরকার।’
ফিনিশিংয়ের এই ব্যর্থতার কারণ জানাতে গিয়ে টিপু বলেছেন, ‘তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল রক্ষণনির্ভর। একজন খেলোয়াড় ওপরে ছিল। মাঝেমধ্যে ওর কাছে বল গেছে। তবে তাকে সহায়তা করার মতো খেলোয়াড়ও দরকার আছে। তবু খেলাটা আগের মতো অগোছালো মনে হয়নি। পাসগুলো উল্টাপাল্টা ছিল না। জামাল ভূঁইয়াকেও অনেক দিন পর সক্রিয় মনে হয়েছে। এখন বাকিটা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে (আগামীকাল) বোঝা যাবে। আর উন্নতির জন্য কাবরেরাকে অবশ্যই কৃতিত্ব দিতে হবে।’
তবে দল নির্বাচনে কোচ কাবরেরার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন আলফাজ। তিনি বলেছেন, ‘কোচ কাবরেরা জানতেন, তাঁর দলে ভালো ফিনিশার নেই। তবু একাধিক স্ট্রাইকারকে দেশে রেখে গেছেন। কাবরেরা আসলে কী করতে চাইছেন, তিনিই ভালো বলতে পারবেন। দল নির্বাচন তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’