গল্পটা বলিউডের শহরে বলিউডের সিনেমাকেও হার মানানোর মতো। ২৫ বছর পর জন্মশহরে ফিরে এমন কীর্তি গড়বেন, সেটি বোধ হয় আজাজ প্যাটেল ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি।
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৪ বছরে ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে এক ইনিংসে ১০ উইকেট শিকারের নজির গড়েছেন নিউজিল্যান্ডের আজাজ। একুশ শতকে প্রথমবার বিরল রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। মুম্বাই টেস্টের প্রথম দিন ভারতের চার ব্যাটারকে ফেরানোর পর গতকাল দ্বিতীয় দিনে বাকি ছয়জনকেও নিজের শিকার বানিয়েছেন তিনি।
আজাজের রেকর্ডের দিনে ভারত প্রথম ইনিংসে ৩২৫ রানে অলআউট হওয়ার পর পাল্টা জবাব দিয়েছে। তাতে উল্টো বিব্রতকর রেকর্ডে নাম উঠেছে নিউজিল্যান্ডের। আজাজের মতো ‘একাই এক শ’ হয়ে উঠতে না পারলেও রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৪), মোহাম্মদ সিরাজ (৩), অক্ষর প্যাটেল (২) ও জয়ন্ত যাদবের (১) ‘চতুর্মুখী চাপে’ মাত্র ৬২ রানে গুটিয়ে গেছে কিউইরা। এশিয়া মহাদেশে এটিই তাদের সর্বনিম্ন স্কোর। ১৯৫৫ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭০ রানে অলআউটের ঘটনা এত দিন ছিল সর্বনিম্ন।
নিয়মিত অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসকে ছাড়াই নিউজিল্যান্ডকে কাল ফলো-অন করানোর সুযোগ থাকলেও দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমেছে ভারত। দিন শেষে বিরাট কোহলির দলের রান বিনা উইকেটে ৬৯, লিড ৩৩২ রানের।
৩৩ বছর বয়সী আজাজই প্রথম বোলার হিসেবে প্রতিপক্ষের মাঠে ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার অনন্য নজির গড়লেন। বাকি দুজন ইংল্যান্ডের জিম লেকার ও ভারতের অনিল কুম্বলে বিস্ময়জাগানিয়া বোলিং উপহার দিয়েছিলেন ঘরের মাঠে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে।
এক অর্থে আজাজের অবিস্মরণীয় সাফল্যকে ‘বিদেশের মাটিতে’ বলা যাবে না। তিনি তো ঘরের ছেলে! ১৯৮৮ সালের ২১ অক্টোবর মুম্বাইয়েই জন্ম তাঁর।
শৈশবের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন এ শহরে। ক্রিকেটে হাতেখড়িও হয়েছিল এখানে। ৮ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড পাড়ি জমালেও ক্রিকেটের প্রতি টানটা একটুও কমেনি। ভালোবাসা কমেনি মুম্বাইয়ের মানুষের প্রতিও। তাই তো বিয়েও করেছেন মুম্বাইয়ের মেয়েকে।
আজাজের বৈচিত্র্যময় জীবনের গল্প এখানেই শেষ নয়। গত দুই দিনে বাঁহাতি স্পিনে ভারতীয় ব্যাটারদের নাকাল করলেও শুরুটা হয়েছিল পেসার হিসেবে! তবে পূর্ণাঙ্গ পেসার হয়ে ওঠার অন্যতম বৈশিষ্ট্য উচ্চতা কম হওয়ায় ঝুঁকে পড়েন স্পিনে। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিউজিল্যান্ড হারলেও সবচেয়ে বেশি ১০ উইকেট পেয়েছিলেন আজাজই। তবে ক্রিকেটের আরেক সংস্করণ ওয়ানডেতে এখনো অভিষেক হয়নি তাঁর।
জন্মশহরে বিরল কীর্তি গড়ার পর আজাজ বেশ আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন, ‘আমার ও পরিবারের কাছে এটা দারুণ মুহূর্ত। করোনার বিধিনিষেধে ওরা ভারতে আসতে না পারলেও ভীষণ খুশি। আমার ক্যারিয়ারে এটা বড় ঘটনা হয়ে থাকবে। যেখানে জন্মেছি, সেখানে ১০ উইকেট পাওয়াটা সৌভাগ্যের। আমি কুম্বলে স্যারের (অনিল কুম্বলে) বিরাট ভক্ত। তাঁর মতো কিছু করতে পেরে আরও ভালো লাগছে।’
ইনিংসে ১০ উইকেট পাওয়া লেকার অনেক আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। ২২ বছর আগে একই কীর্তি গড়া কুম্বলের তাই ইংলিশ স্পিনারের অনুভূতি জানার সৌভাগ্য হয়নি। আজাজ অবশ্য এদিক থেকেও ভাগ্যবান। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কুম্বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘তোমাকে অভিনন্দন আজাজ প্যাটেল। একেবারে পারফেক্ট টেন। কী দারুণ বোলিং করলে! টেস্টের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন এমন পারফরম্যান্স সত্যিই বিশেষ কিছু।’